মলত্যাগের সময় যন্ত্রণা, জ্বালাপোড়া কিংবা রক্তপাত— অর্শের সমস্যা একবার শুরু হলে দৈনন্দিন জীবনই দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই মনে করেন, এই রোগ মানেই অস্ত্রোপচার। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাসে বদল এবং কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে আরাম মিলতে পারে অনেকটাই। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য অসতর্কতাই বাড়িয়ে দিতে পারে সমস্যা।
![]()
কেন হয় অর্শ?
অর্শ বা পাইলস মূলত মলদ্বারের শিরা ফুলে যাওয়ার সমস্যা। এর ফলে ব্যথা, চুলকানি, ফোলাভাব এবং অনেক সময় রক্তপাতও হতে পারে। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, কম জলপান, অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা— এই সমস্যার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।আয়ুর্বেদ মতে, শরীরের বাত, পিত্ত ও কফ— এই তিন দোষের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অর্শের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কোন ৩ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলবেন?
অর্শে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কিছু খাবার সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে এই তিন ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি—
অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার
ঝাল ও মশলাদার খাবার
গুরুপাক বা হজমে ভারী খাবার
এই ধরনের খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে মলত্যাগের সময় চাপ বাড়ে এবং অর্শের যন্ত্রণা আরও বেড়ে যেতে পারে।
![]()
কী খাবেন?
অর্শের সমস্যা কমাতে আঁশযুক্ত ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—
মুগ ডাল
ওটমিল
গোটা শস্য
তাজা ফল
সবুজ শাকসবজি
এছাড়া সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল, ঘোল ও অন্যান্য তরল পান করলে পেট পরিষ্কার রাখতে সুবিধা হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকিও কমে।
ত্রিফলা ও আমলকির খোসা কতটা উপকারী?
আয়ুর্বেদে ত্রিফলাকে হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণ জলের সঙ্গে ত্রিফলার গুঁড়ো এবং আমলকির খোসা মিশিয়ে খেলে পেট পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। এর ফলে অর্শের উপসর্গও কিছুটা কমতে পারে।তবে কোনও ভেষজ বা ঘরোয়া উপায় শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
![]()
গুলকন্দ ও লজ্জাবতী গাছের ব্যবহার
আয়ুর্বেদে গুলকন্দ শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে বলে উল্লেখ রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে গুলকন্দ খেলে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।রক্তক্ষরণশীল অর্শের ক্ষেত্রে লজ্জাবতী গাছের রস ব্যবহারের কথাও বলা হয় আয়ুর্বেদে। যদিও এ বিষয়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে পর্যাপ্ত গবেষণা সীমিত, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার না করাই ভালো।
সিটজ বাথেও মিলতে পারে আরাম
উষ্ণ জলে কিছুক্ষণ বসে থাকা বা ‘সিটজ বাথ’ অর্শের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেকেই উষ্ণ জলে ত্রিফলা বা ভেষজ ক্বাথ মিশিয়ে ব্যবহার করেন। এরপর নারকেল তেলের মতো প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করলে জ্বালাভাব কিছুটা কমতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি নিয়মিত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত ফোলাভাব বা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ অনেক সময় গুরুতর অবস্থায় অস্ত্রোপচার বা বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
![]()
গরমের সময় অর্শ বা পাইলসের সমস্যা অনেকের মধ্যেই বাড়তে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। তবে সঠিক ডায়েট, পর্যাপ্ত জলপান এবং কিছু আয়ুর্বেদিক উপায়ে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।








