শীত হোক বা গরম—বাড়ির ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টাই কাজ করে। তাই হালকা শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। তবে শব্দটি যদি হঠাৎ জোরে হয় বা স্বর বদলায়, তা অমনোযোগীর মত এড়িয়ে গেলে ধরা নাও পড়তে পারে বড়সড় ত্রুটি। রান্নাঘরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত যন্ত্রটি যাতে মাঝপথে বিকল না হয়ে যায়, তাই আগেভাগে কিছু ‘হোম চেকিং’ জানা জরুরি।
স্বাভাবিক শব্দ—চিন্তার কারণ নয়
বিশেষজ্ঞরা জানান, ফ্রিজের ভিতরের প্লাস্টিক ও ধাতব অংশ তাপমাত্রার ওঠানামায় প্রসারিত–সংকুচিত হওয়ায় ‘ক্লিক’ বা ‘ফটফট’ শব্দ হয়। আবার অটো আইস-মেকারে বরফ পড়ার ‘ক্র্যাক’ শব্দও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ডিফ্রস্টিং চক্রে পানি গলে পড়ার শব্দ, ‘সুইশ’ বা হালকা ‘বুদবুদ’ আওয়াজও ভয় পাওয়ার মতো নয়।

জোরে ‘হুহু’ শব্দ — কম্প্রেসারের সতর্কবার্তা
যদি ফ্রিজের পিছন দিক থেকে জোরে ‘হুহু’ আওয়াজ আসে, তাহলে তা কম্প্রেসারের সমস্যার ইঙ্গিত। আলগা স্ক্রু বা ভিতরের কোনো যন্ত্রাংশ ঠিকভাবে বসানো না থাকলেও এমন হতে পারে। এই অবস্থায় ফ্রিজ বারবার কাঁপতে শুরু করলে সময় নষ্ট না করে মেকানিক ডাকতে হবে।
‘গমগম’ আওয়াজ — বরফ জমার দোষ
ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমে গেলে ইভাপোরেটর ফ্যান আটকে গিয়ে জোরালো ‘গমগম’ শব্দ তৈরি হয়।
সমাধান:
ফ্রিজ বন্ধ করে ৭–৮ ঘণ্টা দরজা খোলা রাখুন, বরফ গলতে দিন।
তবুও একই শব্দ থাকলে বুঝতে হবে অটো–ডিফ্রস্ট সিস্টেম নষ্ট।

‘গুনগুন’ বা বারবার ‘ক্লিক’—অতিরিক্ত লোড
হালকা গুনগুন সমস্যা নয়, কিন্তু শব্দ ক্রমাগত জোরে হতে থাকলে বুঝতে হবে কম্প্রেসার অতিরিক্ত লোড নিচ্ছে।
যদি ‘ক্লিক’ শব্দ বারবার শোনা যায়, তাহলে কম্প্রেসার ওভারহিট হয়ে বন্ধ–চালু হতে থাকে।
এটি দ্রুত সারানো জরুরি, নইলে পুরো কম্প্রেসার পরিবর্তন করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

দ্রুত করণীয়—যা বাড়িতেই করতে পারেন
পিছনের কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করুন
ফ্রিজটি সমতল মেঝেতে বসান
ফ্রিজের পিছনে যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা রাখুন
এতে শব্দ কমবে এবং যন্ত্রের চাপও কম হবে।
ফ্রিজ হঠাৎ জোরে ‘হুহু’, ‘গমগম’ বা ‘গুনগুন’ শব্দ করলে তা সবসময় বিপদের বার্তা নয়। বাড়িতে বসেই কয়েকটি সাধারণ পরীক্ষা করলে বোঝা যায়—সমস্যা স্বাভাবিক নাকি মেকানিক ডাকাই জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রিজের শব্দের ধরন বুঝে আগে থেকে নজর রাখলে বড়সড় খরচ থেকেও বাঁচা যায়।













