বাজারে আপেল, কলা বা কমলালেবুর গায়ে স্টিকার তো দেখেছেনই। অনেকেই ভাবেন এগুলো শুধু দাম বা ব্র্যান্ড বোঝানোর জন্য। কিন্তু বাস্তবে এই ছোট স্টিকারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ফলের উৎপাদন পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
কী বলে বিশেষজ্ঞরা?
Food Safety and Standards Authority of India (FSSAI)-এর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফলের উপর স্টিকার ব্যবহার করা হয় তার গুণমান, উৎপাদন পদ্ধতি এবং মূল্য বোঝাতে। যদিও ভারতে এর নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক নিয়ম সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
সব স্টিকার কি বিশ্বাসযোগ্য?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় ফলের খুঁত ঢাকতে বা ভালো দেখাতে স্টিকার ব্যবহার করা হয়। ফলে শুধুমাত্র স্টিকার দেখে ফলের গুণমান বিচার করা ঠিক নয়।
কোড দেখেই বুঝুন ফলের আসল পরিচয়
ফলের স্টিকারে থাকা সংখ্যাগুলোই আসল চাবিকাঠি—
৪ সংখ্যা দিয়ে শুরু (৪-সংখ্যার কোড):
রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদিত
৮ দিয়ে শুরু (৫-সংখ্যার কোড):
জেনেটিক্যালি মডিফাইড (GMO) ফল
৯ দিয়ে শুরু (৫-সংখ্যার কোড):
অর্গানিক ফল—সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক
তাই সম্ভব হলে ৯ দিয়ে শুরু হওয়া কোডের ফল বেছে নেওয়াই ভালো।
স্টিকার থাক বা না থাক—ধোয়া জরুরি
US Food and Drug Administration (FDA) জানাচ্ছে, স্টিকার ও আঠা সাধারণত খাদ্যোপযোগী হলেও খাওয়ার আগে স্টিকার খুলে ফেলা এবং ফল ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
স্টিকার না থাকলেই কি অর্গানিক?
না, স্টিকার না থাকলেই ফল অর্গানিক—এমন ভাবা ভুল। তাই যেকোনো ফলই খাওয়ার আগে লবণ জল বা গরম জল দিয়ে ধুয়ে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
ফলের গায়ে থাকা স্টিকার শুধু দাম জানানোর জন্য নয়। এর কোড থেকেই জানা যায় ফলটি কীভাবে উৎপাদিত—অর্গানিক, রাসায়নিকযুক্ত না জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত। তাই কেনার আগে স্টিকার দেখে নেওয়া জরুরি।













