গণেশ হলেন হিন্দু ধর্মে ‘প্রথম পূজ্য’ দেবতা। যে কোনও শুভ কাজ শুরু করার আগে তাঁর পুজো করার রীতি রয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, বিঘ্নহর্তা গণেশের কৃপায় জীবনের বাধা দূর হয় এবং সাফল্যের পথ প্রশস্ত হয়। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। ২০২৬ সালেও ধুমধাম করে এই উৎসব পালিত হবে। জেনে নিন এবারের গণেশ চতুর্থীর দিনক্ষণ, শুভ পুজোর সময় এবং কীভাবে করবেন সিদ্ধিদাতার আরাধনা।
কবে গণেশ চতুর্থী ২০২৬?
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
চতুর্থী তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং তিথি শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে।
তিথি দু’দিনে বিস্তৃত হলেও গণেশ চতুর্থীর মূল পুজো ১৪ সেপ্টেম্বরই পালিত হবে।
কলকাতায় পুজোর শুভ সময় কখন?
কলকাতায় গণেশ পুজোর জন্য মধ্যাহ্নকালকে বিশেষভাবে শুভ বলে ধরা হয়েছে। প্রদত্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত গণেশ পুজো ও প্রতিমা স্থাপনের শুভ সময়।এছাড়া কলকাতায় গণেশ পুজোর আর একটি শুভ সময় হিসেবে সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত সময় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় পঞ্জিকা ও পুরোহিতের পরামর্শ অনুযায়ী পুজোর সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।
কেন গণেশকে ‘প্রথম পূজ্য’ বলা হয়?
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, পার্বতীর সৃষ্টি গণেশকে একসময় শিবের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে হয়। সেই ঘটনায় গণেশের মস্তক ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গজমুণ্ড সংযোজন করে তাঁকে পুনর্জীবন দেওয়া হয়।এই পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে গণেশের বিশেষ মর্যাদা জড়িয়ে রয়েছে। তাই কোনও শুভ কাজ, বিদ্যাচর্চা, ব্যবসা কিংবা নতুন উদ্যোগের শুরুতে গণেশের আরাধনা করার প্রচলন রয়েছে।ঐতিহাসিকভাবেও গণেশ উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মারাঠা শাসক ছত্রপতি শিবাজীর সময় থেকে উৎসবটির গুরুত্ব বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ১৮৯৩ সালে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক গণেশ উৎসবকে সর্বজনীন রূপ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত করেন।
কীভাবে গণেশ পুজো করবেন?
গণেশ চতুর্থীর পুজোয় শাস্ত্রীয় কিছু নিয়ম মেনে চলার প্রচলন রয়েছে। বাড়িতে পুজো করলে প্রথমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে পুজোর স্থান প্রস্তুত করতে হবে।
প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও সংকল্প
পুজোর জায়গা পরিষ্কার করে একটি সুন্দর বেদি তৈরি করা হয়। এরপর পাত্রে গঙ্গাজল ও ফুল নিয়ে পুজোর সংকল্প গ্রহণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর শুরু হয় মূল আরাধনা।
স্নান ও সাজসজ্জা
গণেশ মূর্তিকে স্নান করিয়ে পরিষ্কার পোশাক পরানো হয়। এরপর রক্তবস্ত্র, অলঙ্কার এবং বিভিন্ন পুজোর উপকরণ দিয়ে তাঁকে সাজানো হয়।
দূর্বা ও লাল জবা অর্পণ
গণেশের পুজোয় দূর্বার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী ২১টি দূর্বা ঘাস, রক্তচন্দন এবং লাল জবা ফুল অর্পণ করার প্রচলন রয়েছে।
মোদক ও লাড্ডু ভোগ
গণেশের অন্যতম প্রিয় ভোগ হিসেবে মোদক ও লাড্ডু নিবেদন করা হয়। এর সঙ্গে ৫ ধরনের ফল নিবেদন করার রীতিও রয়েছে। ভক্তরা ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে নৈবেদ্য অর্পণ করে সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
মন্ত্রজপ ও আরতি
পুজোর সময় ‘ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ’ মন্ত্র জপ করা হয়। প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী এই মন্ত্র ১০৮ বার জপ করার কথা বলা হয়েছে। সবশেষে প্রদীপ জ্বালিয়ে গণেশের আরতি করে পুজো সম্পন্ন করা হয়।
গণেশ পুজোয় সমৃদ্ধির জন্য কী করবেন?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশ হলেন সিদ্ধি ও বুদ্ধির দেবতা এবং তিনি বিঘ্নহর্তা হিসেবেও পূজিত। তাই গণেশ চতুর্থীর দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে পুজো করা, দূর্বা, লাল ফুল, মোদক ও লাড্ডু নিবেদন করা এবং ভক্তিভরে মন্ত্রজপ করার রীতি রয়েছে।বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠার সঙ্গে গণেশের আরাধনা করলে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, চতুর্থী তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে। কলকাতায় গণেশ পুজোর জন্য নির্দিষ্ট শুভ সময়ও রয়েছে। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে সিদ্ধিদাতার আরাধনা করলে জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও সিদ্ধি আসে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।










