Child Psychology: চিপস-চকোলেট ছাড়াতে শিশুকে ‘পেটের ভিতর পোকা’ দেখাচ্ছেন? সাময়িক কাজ করলেও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ, জানালেন মনোবিদ

Child Psychology: চিপস-চকোলেট খাওয়া বন্ধ করাতে শিশুকে পেটের ভিতর পোকা দেখিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন? মনোবিদের মতে, এই কৌশলে তৈরি হতে পারে ভয় ও খাবার নিয়ে নেতিবাচক ধারণা। জানুন সঠিক উপায়।

চিপস, চকোলেট কিংবা অন্য প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার জন্য শিশু জেদ করলে অনেক সময় বাবা-মায়ের মাথায় আসে নানা ‘ট্রিক’। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই একটি পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়েছে, যেখানে শিশুকে মোবাইলে এআই বা গ্রাফিক্সের তৈরি ভিডিও দেখানো হচ্ছে। ভিডিওতে পেটের ভিতরে পোকা নড়াচড়ার দৃশ্য দেখিয়ে বোঝানো হচ্ছে, বেশি চিপস-চকোলেট খেলেই নাকি এমনটা হবে। ভয় পেয়ে শিশু হয়তো সঙ্গে সঙ্গে খাবার ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই আপাত সহজ সমাধানই ভবিষ্যতে মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘পেটে পোকা হবে’ বলে ভয় দেখানো কেন বিপজ্জনক?

মনোবিদ শ্রীজয় ভট্টাচার্যের মতে, ছোট বয়সে বাস্তবতা এবং কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা শিশুদের মধ্যে সবসময় স্পষ্ট থাকে না। ফলে মোবাইলের পর্দায় পেটের ভিতর পোকা দেখলে শিশু সেটিকে নিছক কল্পনা হিসেবে নাও নিতে পারে। বরং নিজের শরীরের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে ফেলতে পারে।এর ফলে খাবারের সঙ্গে আনন্দের বদলে আতঙ্কের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ভয় দেখিয়ে কোনও অভ্যাস বদলানোর চেষ্টা করলে শিশুর মনে সেই ভয় দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে।

হতে পারে দুঃস্বপ্ন, ফোবিয়া ও অতিরিক্ত ভয়

ভয় দেখানোর এই কৌশলের প্রভাব শুধু সেই মুহূর্তের কান্না বা খাবার প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। শিশুর মধ্যে অতিরিক্ত উদ্বেগ, ঘুমের সময় দুঃস্বপ্ন এবং কোনও নির্দিষ্ট বিষয়কে ঘিরে অস্বাভাবিক ভয় তৈরি হতে পারে।কখনও কখনও খাবার নিয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে। খাবার দেখলেই যদি শিশুর মনে ভয় বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তাহলে সে শুধুমাত্র চিপস বা চকোলেট নয়, অন্যান্য খাবারও এড়িয়ে যেতে পারে।

খাবারের সঙ্গে ভয় জুড়ে গেলে তৈরি হতে পারে সমস্যা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে খাবারের ক্ষতিকর দিক বোঝানো অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা ঠিক নয়। খাবার দেখলেই ভয় পাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলে শিশুর খাওয়ার স্বাভাবিক আচরণেও প্রভাব পড়তে পারে।কিছু ক্ষেত্রে মানসিক চাপের প্রভাবে বমি বমি ভাব, বমি বা পেটব্যথার মতো শারীরিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র চিপস-চকোলেট থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে ভয় দেখানো উল্টে শিশুর খাবার সংক্রান্ত অভ্যাসকেই জটিল করে তুলতে পারে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কে

শিশুর কাছে বাবা-মা সাধারণত নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় জায়গা। তাই সেই বাবা-মাই যদি বারবার মিথ্যা বা ভয়ঙ্কর গল্প বলে কোনও কিছু থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর মনে সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে।শুধু তাই নয়, ভয় দেখিয়ে কোনও খাবারের প্রতি শিশুর আকর্ষণ সাময়িকভাবে কমানো গেলেও সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না। বরং শিশুর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চাপা ভয় বা বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে।

তাহলে চিপস-চকোলেটের জেদ কীভাবে সামলাবেন?

ভয় দেখানোর পরিবর্তে কয়েকটি বাস্তবসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

চোখের সামনে চিপস-চকোলেট রাখবেন না

শিশুর হাতের কাছে বা চোখের সামনে নিয়মিত প্যাকেটজাত স্ন্যাকস রাখলে তার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই বাড়িতে এগুলির মজুত কমিয়ে দেওয়াই প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর বিকল্প দিন

চিপস বা চকোলেটের পরিবর্তে শিশুর পছন্দ অনুযায়ী সুস্বাদু বিকল্প তৈরি করা যেতে পারে। বাড়িতে তৈরি মাখানা রোস্ট, তিলের খাজা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ড্রাই ফ্রুটস দেওয়া যেতে পারে।

ইতিবাচকভাবে বোঝান

‘এটা খেলে পেটের মধ্যে পোকা হবে’—এ ধরনের ভয় দেখানোর পরিবর্তে শিশুকে সহজ ভাষায় বোঝানো ভালো যে অতিরিক্ত প্যাকেটজাত খাবার কেন নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবারের উপকারিতাও গল্পের মাধ্যমে বোঝানো যেতে পারে।

অভিভাবকদেরও উদাহরণ হতে হবে

শিশুকে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে বলার পাশাপাশি বাড়ির বড়রাও যদি নিয়মিত চিপস, মিষ্টি বা অন্য জাঙ্ক ফুড খান, তাহলে শিশুর কাছে বিপরীত বার্তা পৌঁছতে পারে। তাই পরিবারের খাবারের অভ্যাসেও সামঞ্জস্য রাখা জরুরি।

শিশুর জেদ সামলাতে অনেক বাবা-মা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নানা কৌশলের সাহায্য নিচ্ছেন। চিপস বা চকোলেট খেতে চাইলে শিশুকে এআই তৈরি ভয়ঙ্কর ভিডিও দেখিয়ে বলা হচ্ছে, এসব খেলে পেটের ভিতর পোকা হয়ে যাবে। এতে মুহূর্তে জেদ থামলেও শিশুর মনে গভীর ভয়, উদ্বেগ এবং খাবার নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন মনোবিদরা।

Leave a comment