চা-বাগানের শ্রমিকদের ‘দিদি’ আজ রাষ্ট্রপতির সম্মানে ভূষিত! মানবসেবার স্বীকৃতিতে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল পুরস্কার পেলেন গীতা কর্মকার

ডেঙ্গুয়াঝাড় চা-বাগানের শ্রমিকদের ৩৭ বছর ধরে নিরলস সেবা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে জাতীয় ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল অ্যাওয়ার্ড পেলেন গীতা কর্মকার।

মানবসেবাকেই জীবনের ব্রত করেছিলেন তিনি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর চা-বাগানের শ্রমিকদের অসুখ-বিসুখ, দুর্ঘটনা কিংবা সংকটের মুহূর্তে ছুটে গিয়েছেন এক ডাকে। সেই নিরলস সেবারই আজ মিলল জাতীয় স্বীকৃতি। জলপাইগুড়ির গীতা কর্মকার এবার রাষ্ট্রপতির হাত থেকে গ্রহণ করলেন সম্মানজনক ‘জাতীয় ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল অ্যাওয়ার্ড’।

চা-বাগানের শ্রমিকদের ‘দিদি’ আজ রাষ্ট্রপতির সম্মানে ভূষিত! মানবসেবার স্বীকৃতিতে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল পুরস্কার পেলেন গীতা কর্মকার
শ্রমিক মহল্লার ভরসার নাম গীতা কর্মকার

Geeta Karmakar দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে ডেঙ্গুয়াঝাড় চা-বাগান এবং আশপাশের শ্রমিক মহল্লায় স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। জলপাইগুড়ির নেতাজি পাড়ার বাসিন্দা হলেও প্রতিদিন প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়ে শ্রমিকদের চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা দেওয়াকেই নিজের কর্তব্য বলে মনে করতেন তিনি।স্থানীয়দের কথায়, গভীর রাত হোক কিংবা প্রবল বৃষ্টি— যে কোনও পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গীতা দেবী। অসুস্থতা, সন্তানসম্ভবা মহিলার সমস্যা কিংবা দুর্ঘটনার খবর পেলেই ছুটে যেতেন তিনি।

মানবসেবাকেই করেছেন জীবনের মূলমন্ত্র

গীতা কর্মকারের কাছে পেশা কখনও শুধুমাত্র চাকরি ছিল না। মানবসেবাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। কঠিন ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া, শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাই ছিল তাঁর কাজের মূল ভিত্তি।চা-বাগানের বহু শ্রমিক পরিবার আজও তাঁকে পরিবারের সদস্যের মতোই মনে করেন। কারণ শুধু চিকিৎসা নয়, মানসিক ভরসাও জুগিয়েছেন তিনি।

চা-বাগানের শ্রমিকদের ‘দিদি’ আজ রাষ্ট্রপতির সম্মানে ভূষিত! মানবসেবার স্বীকৃতিতে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল পুরস্কার পেলেন গীতা কর্মকার
রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এল জাতীয় সম্মান

এই দীর্ঘ সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘জাতীয় ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল অ্যাওয়ার্ড’। দেশের রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu নিজ হাতে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন।এই পুরস্কার শুধুমাত্র গীতা কর্মকারের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং গোটা জলপাইগুড়ির জন্যও এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

খুশির হাওয়া শ্রমিক মহল্লায়

গীতার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ডেঙ্গুয়াঝাড় চা-বাগানের শ্রমিকরাও। স্থানীয় শ্রমিক মনোজিৎ এক্কার কথায়, “ম্যাডামকে যখনই ডেকেছি, উনি ছুটে এসেছেন। আমাদের পরিবারের মানুষের মতো পাশে থেকেছেন।”এই সম্মানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চা-বাগান এলাকা জুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

চা-বাগানের শ্রমিকদের ‘দিদি’ আজ রাষ্ট্রপতির সম্মানে ভূষিত! মানবসেবার স্বীকৃতিতে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল পুরস্কার পেলেন গীতা কর্মকার
প্রায় ৩৭ বছর ধরে জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা-বাগানের শ্রমিকদের পাশে থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও মানবসেবার কাজ করে চলেছেন গীতা কর্মকার। তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস সেবাকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পেলেন মর্যাদাপূর্ণ ‘জাতীয় ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল অ্যাওয়ার্ড’। এই সম্মানে খুশির হাওয়া গোটা জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে।

Leave a comment