ফিটনেস ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। নিয়মিত জিম, কড়া ডায়েট, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন— সবকিছুই ছিল নিখুঁত নিয়মের মধ্যে। অথচ সেই মানুষটিই হঠাৎ থেমে গেলেন মাত্র ৩৮ বছর বয়সে। সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের পুত্র প্রতীক যাদবের অকালমৃত্যু এখন ঘিরে ফেলেছে একাধিক রহস্য ও জল্পনা।
ফিটনেস নিয়েই ছিল আলাদা পরিচিতি
Prateek Yadav রাজনীতির মূল স্রোত থেকে নিজেকে দূরে রাখলেও ফিটনেস দুনিয়ায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন। ঘন্টার পর ঘন্টা জিমে শরীরচর্চা, নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন তাঁকে পরিচিত করেছিল ‘ফিটনেস ফ্রিক’ হিসেবে।ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, প্রতীক নিজের শরীর নিয়ে এতটাই সচেতন ছিলেন যে কোনও রকম অনিয়ম তিনি বরদাস্ত করতেন না। এমনকি তিনি একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জিমও পরিচালনা করতেন বলে জানা গিয়েছে।
হঠাৎ মৃত্যুর খবরেই তৈরি ধোঁয়াশা
বুধবার সকালে আচমকাই সামনে আসে তাঁর মৃত্যুর খবর। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তবে ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এই অবস্থায় নানা মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। কেউ বলছেন হৃদরোগ, কেউ বা অতিরিক্ত শরীরচর্চার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনার কথা তুলছেন। যদিও প্রশাসন বা পরিবারের তরফে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই মিলবে আসল কারণ
প্রতীক যাদবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ভরসা একমাত্র ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ দেখালেও শরীরের ভিতরে লুকিয়ে থাকা জটিল সমস্যা আচমকা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত ফিটনেস রুটিন বা অতিরিক্ত ওয়ার্কআউটের ক্ষেত্রেও নিয়মিত হার্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
বিলাসবহুল জীবনযাপনেও ছিলেন আলোচনায়
Prateek Yadav শুধু ফিটনেস নয়, বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহের কারণেও পরিচিত ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর জীবনযাপন ও শরীরচর্চার নানা ছবি নিয়মিত ভাইরাল হত।অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী Aparna Yadav বহুবার প্রকাশ্যে প্রতীকের নিয়মমাফিক জীবনযাপনের প্রশংসা করেছিলেন।
সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের ছেলে প্রতীক যাদবের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠছে, কী এমন ঘটল একজন ফিটনেস সচেতন মানুষের জীবনে? ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পরিবার ও প্রশাসন।











