ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একদিকে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে মৌসুমি বায়ুর আগমনের প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের একাধিক অংশ তীব্র গরম ও লুয়ের প্রভাবে রয়েছে। এর মধ্যে India Meteorological Department (IMD) আগামী কয়েক দিনের জন্য দেশের ১৬টি রাজ্যে বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
IMD জানিয়েছে, আগামী চার দিনে উত্তর-পূর্ব ভারত, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটক-সহ একাধিক রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। অসম ও মেঘালয়ের কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রাথমিক কার্যকলাপ দেখা যাচ্ছে।
জাতীয় রাজধানী অঞ্চলেও আবহাওয়ার ওঠানামা অব্যাহত থাকবে। দিল্লিতে আগামী কয়েক দিন আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে এবং কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ মে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। ১৬ মে পর্যন্ত আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা থাকলেও হালকা বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে।
উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে আবহাওয়া শুষ্ক রয়েছে। রাজধানী লখনউ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মীরাট, বুলন্দশহর ও শামলি-সহ কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আর্দ্রতার কারণে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
![]()
বিহারে ১৪ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১৬ মে কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। দরভাঙ্গা ও পূর্ণিয়ার মতো এলাকায় আবহাওয়া বেশি সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
ঝাড়খণ্ডেও ১৪ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাঁচি, জামশেদপুর ও ধানবাদে মেঘলা আকাশ থাকতে পারে।
উত্তরাখণ্ডে ১৪ মে আবহাওয়ার অবনতি হতে পারে। পার্বত্য এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দেরাদুন, নৈনিতাল ও মুসৌরিতে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চারধাম যাত্রাপথে পিচ্ছিল রাস্তা ও ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশে ১৫ ও ১৬ মে আবহাওয়া খারাপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শিমলা, মানালি ও ধর্মশালায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে থাকতে পারে। ভূমিধস ও রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বনের আবেদন জানিয়েছে।
রাজস্থানে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। পশ্চিম রাজস্থানের জেলাগুলিতে ১৫ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তীব্র লুর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জয়সলমের, বিকানের ও যোধপুরে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকতে পারে। জয়পুর ও কোটায় গরম হাওয়ার সঙ্গে আর্দ্রতাও বাড়তে পারে। পূর্ব রাজস্থানের কিছু অংশে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অধিকাংশ এলাকা গরম হাওয়ার প্রভাবে থাকবে।











