সোনার বাজারে এখনই বিনিয়োগ করবেন, নাকি দর আরও কিছুটা কমার অপেক্ষায় থাকবেন—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মনে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এখনও ৪,০০০ ডলার প্রতি আউন্সের গুরুত্বপূর্ণ স্তরের কাছাকাছি থাকলেও শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং চড়া বন্ড ইয়িল্ড দামের উপর চাপ তৈরি করছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও মিলেছে সতর্কবার্তা—বাজারের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে আগামী দিনে সোনার দামে ফের বড়সড় পতন বা সংশোধন দেখা দিতে পারে।
কেন চাপের মুখে সোনার বাজার?
সোনার দাম সাধারণত মার্কিন ডলার এবং মার্কিন বন্ড ইয়িল্ডের গতিপথের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বর্তমানে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং তুলনামূলক বেশি রিয়েল ও বন্ড ইয়িল্ড সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা জুন মাসের সর্বনিম্ন স্তর, অর্থাৎ প্রায় ৩,৯৪৩ ডলার প্রতি আউন্স থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে ১০ বছরের মার্কিন TIPS ইয়িল্ড যদি ২.৪৪ শতাংশের আশপাশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, তাহলে তা সোনার দামের উপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
৪,০০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াল সোনা
চাপের মধ্যেও গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছে। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের হিসেবে সোনার দর প্রায় ১.৮ শতাংশ বেড়ে ৪,০৬৭ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছয়।এর ফলে ফের ৪,০০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তর অতিক্রম করে সোনা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল ‘ডিপ বাইং’। অর্থাৎ, দাম কিছুটা কমার সুযোগে বিনিয়োগকারীদের একাংশ নতুন করে সোনা কিনেছেন। ডলার শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও এই কেনাকাটা সোনার দামকে সাময়িকভাবে উপরে ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।
ফের দাম কমলে কোথায় থামতে পারে?
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই উত্থানকে দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, জানুয়ারি থেকে চলা বৃহত্তর বাজার প্রবণতার মধ্যে এটি সাময়িক স্বস্তি হতে পারেযদি আন্তর্জাতিক বাজারে ফের সোনার দর কমতে শুরু করে, তাহলে ৩,৮৫৭ থেকে ৩,৮৮৭ ডলার প্রতি আউন্সের অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট জোন হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই স্তর ভেঙে গেলে বাজারে আরও বড় সংশোধনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর কত?
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ৪,০৪৮.৯৮ ডলার প্রতি আউন্সের আশপাশে লেনদেন করছিল।অন্যদিকে, ভারতীয় বাজারের হিসাবে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত হিসেব অনুযায়ী, সোনার দাম প্রায় ₹১,২৪,৭৫০-এর আশপাশে রয়েছে। গত সপ্তাহে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সময় উচ্চস্তর ছিল প্রায় ₹১,২৫,৩০০।তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দর, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি শুল্ক এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদার কারণে ভারতের খুচরো সোনার দাম আলাদা হতে পারে।
ফেডের সিদ্ধান্তই হতে পারে বড় নিয়ামক
সোনার পরবর্তী গতিপথের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হতে পারে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান। সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলেও ফেড যদি ভবিষ্যতে কড়া আর্থিক নীতির ইঙ্গিত দেয়, তাহলে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।এছাড়া মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হলে বাজারে সুদের হার নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বন্ড ইয়িল্ড ও ডলারের শক্তি বাড়লে সোনার দামের উপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতীয় বাজারে কতটা নামতে পারে সোনা?
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের হিসেব অনুযায়ী, ভারতীয় বাজারে যদি সোনার দর বর্তমান স্তর থেকে ফের নিম্নমুখী হয়, তাহলে ₹১,১৮,৮০০ থেকে ₹১,১৯,৭৫০-এর মধ্যে একটি সম্ভাব্য নিম্নস্তর দেখা যেতে পারে।তবে এই পূর্বাভাস নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, ফেডের সিদ্ধান্ত, ডলারের ওঠানামা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদা—সবকিছুর উপরই ভবিষ্যতে সোনার দাম নির্ভর করবে।
Gold Rate Prediction: সোনার দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, চড়া বন্ড ও রিয়েল ইয়িল্ড এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্ত সোনার দামে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তবুও ফের পতনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।











