লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক ধসে পড়ার ঘটনার পর ভারতীয় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) নির্মাণ ও তদারকির সঙ্গে যুক্ত তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্প থেকে তাঁদের অপসারণ করা হয়েছে এবং আগামী দুই বছরের জন্য কোনও NHAI প্রকল্পে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত সম্পন্ন করে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
১৩ জুলাই প্রায় ৪,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করা হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই উন্নাও জেলার কোরারি এলাকায় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
NHAI নির্মাণকাজ ও গুণগত মান পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত তিন কর্মকর্তাকে প্রকল্প থেকে অপসারণ করেছে এবং আগামী দুই বছরের জন্য তাঁদের কোনও NHAI প্রকল্পে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। এই পদক্ষেপের আওতায় রয়েছেন নির্মাণ সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (হাইওয়ে) বিবেক কুমার গুপ্ত, স্বাধীন প্রকৌশলীর টিম লিডার সুরেন্দ্র কুমার এবং রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার যতেন্দ্র কুমার।
NHAI জানিয়েছে, ২৬ জুলাই নিয়মিত রুট পেট্রোলিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট স্থানে সড়কের উপরিভাগে স্লিপেজ লক্ষ্য করা যায়। খবর পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাণ সংস্থার যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরিদর্শন করে।
![]()
তদন্তে দেখা যায়, সমস্যা শুধুমাত্র সেতুর ডেক স্ল্যাবের উপরের বিটুমিনাস স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কর্মকর্তাদের মতে, ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত, ভারী যান চলাচল এবং জয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে এ ধরনের স্লিপেজের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পরিদর্শনে সেতুর ভিত্তি, সাব-স্ট্রাকচার এবং সুপার-স্ট্রাকচার সম্পূর্ণ নিরাপদ পাওয়া গেছে। তদন্তে কোনও ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি বা নির্মাণ-সংক্রান্ত গুরুতর ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
NHAI জানিয়েছে, পরিদর্শনের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বিটুমিনাস স্তর অপসারণ করে নতুন স্তর বসানো হয়েছে। ভবিষ্যতে বৃষ্টির পানি যাতে সড়কের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য জয়েন্ট সিলিং এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, সব মেরামতকাজ শেষ হওয়ার পর এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ঘটনার পর গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় NHAI দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও কোনও প্রকল্পে নির্মাণের গুণগত মান বা তদারকিতে অবহেলা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংস্থার বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









