মধ্যপ্রাচ্যে Iran–Israel conflict ঘিরে উত্তেজনা বাড়তেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার থেকে সরে এসে নিরাপদ সম্পদে টাকা রাখতে চাইছেন। বিশেষ করে সোনা ও রুপো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন ধাতুতে বিনিয়োগ করা বেশি লাভজনক হতে পারে?
কেন সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ ধরা হয়
বিশ্বে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট বা মুদ্রার ঝুঁকি বাড়লে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকেন। কারণ সোনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি “সেফ হেভেন” বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত।
সোনার দাম সাধারণত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্ভর করে—
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা
ডলারের ওঠানামা
সুদের হার
মুদ্রাস্ফীতি
এই কারণেই দীর্ঘমেয়াদে সোনা অনেক সময় মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।
সুদের হার কমলে বাড়তে পারে সোনার দাম
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বিশ্বে সুদের হার কমার সম্ভাবনা থাকে অথবা যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ে, তাহলে সোনার দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়।
এই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।
রুপোর বিশেষ সুবিধা কী
রুপো শুধু মূল্যবান ধাতু নয়, এর শিল্পক্ষেত্রেও বড় ব্যবহার রয়েছে।
বিশেষ করে—
ইলেকট্রনিক্স
সৌর প্যানেল
বৈদ্যুতিক গাড়ি
চিকিৎসা সরঞ্জাম
এই সব ক্ষেত্রেই রুপোর ব্যবহার বাড়ছে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি শক্তিশালী থাকলে রুপোর চাহিদাও বাড়তে পারে।
রুপোতে লাভ বেশি, তবে ঝুঁকিও বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর দাম সোনার তুলনায় বেশি ওঠানামা করে। তাই স্বল্পমেয়াদে রুপোতে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকলেও ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি।
যাঁরা বেশি ঝুঁকি নিতে পারেন এবং দ্রুত লাভের সম্ভাবনা খোঁজেন, তাঁদের জন্য রুপো একটি বিকল্প হতে পারে।
কোনটি বেছে নেবেন বিনিয়োগকারীরা
বিশেষজ্ঞদের মতে—
স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চাইলে: সোনা ভালো বিকল্প
উচ্চ রিটার্নের সম্ভাবনা চাইলে: রুপোতে সুযোগ থাকতে পারে
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে: সোনা বেশি নির্ভরযোগ্য
স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য: রুপো বিবেচনা করা যেতে পারে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের খোঁজে সোনা ও রুপোর দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন ধাতুতে বিনিয়োগ করলে বেশি লাভ হতে পারে—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সামনে এসেছে।













