বাস বা ট্রেনে যাতায়াতের সময় পাঁচ বা দশ টাকার প্যাকেটে সবুজ মটর কিনে খাওয়াটা অনেকের কাছেই নিত্যদিনের অভ্যাস। স্বাস্থ্যকর মনে করেই অনেকেই তা খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই সবুজ মটর আদৌ কতটা নিরাপদ? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কলকাতা ও শহরতলিতে বিক্রি হওয়া বহু সবুজ মটর আসলে রং করা—যা শরীরের পক্ষে মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে।

সবুজ রঙের আড়ালে লুকিয়ে ভয়ংকর সত্য
এক বাজারে এক বিক্রেতা প্রকাশ্যেই দাবি করেন, এত বিপুল পরিমাণ আসল সবুজ মটর বাজারে পাওয়া সম্ভব নয়। তাঁদের ভাষায়, “আমরা কালারিং শপ থেকেই মটর পাই।” অর্থাৎ হলুদ বা শুকনো মটর বিশেষ পদ্ধতিতে রং করে সবুজ মটরের চেহারা দেওয়া হয়।
ট্রেন-বাসে প্রতিদিন কতটা মটর বিক্রি হচ্ছে?
শিয়ালদহ শাখার এক ট্রেন হকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ কেজি সবুজ মটর বিক্রি করেন। সাধারণত ৫ ও ১০ টাকার প্যাকেটেই এই মটর বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি গড়ে একজন বিক্রেতা দিনে মাত্র ২ কেজিও বিক্রি করেন, তাহলে ১০০ জন বিক্রেতায় সেই পরিমাণ দাঁড়ায় ২০০ কেজি। অর্থাৎ প্রতিদিন কয়েকশো কেজি রং করা মটর বাজারে ঢুকছে।

আসল মটর আর রং করা মটরের পার্থক্য
বিক্রেতাদের দাবি অনুযায়ী, প্রকৃত সবুজ মটরের রং কখনও এতটা গাঢ় সবুজ হয় না। আসল মটর তুলনামূলক শক্ত হয় এবং দামও বেশি। অন্যদিকে রং করা মটর দাঁতে দিলেই সহজে ভেঙে যায়—হলুদ ভাজা মটরের মতোই।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডাই—সবচেয়ে বড় বিপদ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হল, এই মটরে ব্যবহৃত সবুজ রং খাবারের উপযোগী ফুড কালার নয়। এগুলি শিল্পে ব্যবহৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডাই। আর এই মটর সবচেয়ে বেশি খাচ্ছে শিশুরা, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, আসল সবুজ মটরে প্রচুর আয়রন, ফসফরাস, ফোলেট ও ভিটামিন A, K ও C থাকে। এগুলি পেশি শক্তি বাড়াতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিন্তু রং করা মটর খেলে হজমের সমস্যা, পেট খারাপ এমনকি জেনেটিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এই কৃত্রিম রং গ্রহণ করলে ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বাস, ট্রেন কিংবা রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া সবুজ মটর আদৌ কি আসল? সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়ংকর তথ্য। বিক্রেতাদের দাবি অনুযায়ী, বাজারে বিক্রি হওয়া বহু সবুজ মটর আসলে কৃত্রিম রং মেশানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।













