Earthquake: ৩০ ঘণ্টায় ২৪ বার কেঁপে উঠল গুজরাট, একসঙ্গে সক্রিয় ৩ ফল্ট লাইন! বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ভূ-বিজ্ঞানীরা

Earthquake: ৩০ ঘণ্টায় ২৪ বার কেঁপে উঠল গুজরাট, একসঙ্গে সক্রিয় ৩ ফল্ট লাইন! বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ভূ-বিজ্ঞানীরা

২৪ বছর আগের ভয়াবহ স্মৃতি আবার ফিরে আসছে গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে। শুক্রবার ভোরে ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের পর টানা ৩০ ঘণ্টায় ২৪ বার কেঁপে উঠেছে গুজরাটের মাটি। আপাতত বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, একসঙ্গে তিনটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের নড়াচড়া ঘিরে বিশেষজ্ঞদের কপালে গভীর ভাঁজ।

৩০ ঘণ্টায় ২৪ আফটারশক, আতঙ্ক কচ্ছ জুড়ে

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে মোট ২৪টি ভূমিকম্প ও আফটারশক নথিভুক্ত হয়েছে। এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল নর্থ ওয়াগদ ফল্ট—যা কচ্ছ অঞ্চলের অন্যতম সক্রিয় ও বিপজ্জনক ফল্ট হিসেবে পরিচিত।

একসঙ্গে সক্রিয় তিন ফল্ট লাইন, বাড়ছে ঝুঁকি

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ডেটা বিশ্লেষণ করে ভূ-বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, শুধু নর্থ ওয়াগদ নয়—একই সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কাথরোল হিল এবং গোরা ডোঙ্গার ফল্ট লাইনও। একাধিক ফল্ট একযোগে সক্রিয় হওয়া মানেই ভূগর্ভে চাপের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বদলে যাওয়া, যা বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞের মত: আফটারশকই সতর্কবার্তা

ভুজে কচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গৌরব চৌহান বলেন,

“ছোট মাত্রার আফটারশক সাধারণত ভূগর্ভের চাপ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যা তখনই, যখন একাধিক ফল্ট লাইন একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক কম্পনগুলি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে নর্থ ওয়াগদ, কাথরোল হিল ও গোরা ডোঙ্গার ফল্ট একই সময়ে সক্রিয়।”তিনি আরও জানান, গত কয়েক মাসে এই তিনটি ফল্ট লাইনের আশপাশে যে কম্পনগুলি ধরা পড়েছে, তা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকেই বাড়িয়ে তুলছে।

ভূমিকম্পপ্রবণ কচ্ছ, অতীতের ভয়াবহ ইতিহাস

উল্লেখযোগ্যভাবে, কচ্ছ অঞ্চল ইতিমধ্যেই ১০টিরও বেশি ফল্ট লাইনের উপর অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে কচ্ছ মেইনল্যান্ড ফল্ট ও সাউথ ওয়াগদ ফল্ট—যেগুলি ২০০১ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে (৭.৭ মাত্রা) সক্রিয় হয়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

২০২৫-এর কম্পনে নতুন আশঙ্কা

ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৫ সালে রেকর্ড হওয়া সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভূগর্ভের চাপ কেবল নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। বরং সেই চাপ নতুন ফল্ট সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভূমিকম্প শুধু কচ্ছেই নয়, পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।

গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ২৪ বার ভূমিকম্প ও আফটারশক অনুভূত হওয়ায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নর্থ ওয়াগদ, কাথরোল হিল ও গোরা ডোঙ্গার—এই তিনটি ফল্ট লাইন একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠায় ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a comment