মিষ্টি খেতে ভালবাসেন, অথচ বাড়িতে বেশি উপকরণ নেই? চিন্তা নেই! রান্নাঘরে থাকা আটা আর চিনি দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় মিষ্টি গুলগুলা। সঠিক ঘনত্বের মিশ্রণ তৈরি করে গরম তেলে ভেজে নিলেই তৈরি হবে সোনালি রঙের সুস্বাদু গুলগুলা। বিকেলের জলখাবার থেকে শুরু করে বিশেষ অনুষ্ঠান কিংবা কালীপুজোর ভোগ—সব ক্ষেত্রেই রাখতে পারেন এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি।
কী এই গুলগুলা? গ্রাম বাংলার হাটে এখনও জনপ্রিয়
গোলাকার আকৃতি, মিষ্টি স্বাদ এবং বাইরে হালকা মুচমুচে আবরণের সঙ্গে ভিতরের নরম ভাব—এই বৈশিষ্ট্যগুলিই গুলগুলাকে আলাদা করে তোলে। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাট, বাজার ও ছোট খাবারের দোকানে এই মিষ্টি বিক্রি হতে দেখা যায়। মালদার মোথাবাড়ি থানার গোসাইহাটের বুধবারের সাপ্তাহিক হাটেও গুলগুলার জনপ্রিয়তা রয়েছে।বাজার করতে এসে অনেকে এই মিষ্টি কিনে বাড়ি নিয়ে যান। সহজ উপকরণে তৈরি করা যায় বলে বাড়িতেও এটি বানানো সম্ভব। শুধু মিষ্টি খাওয়ার জন্য নয়, বিশেষ অনুষ্ঠানেও গুলগুলা তৈরি করা হয়।
গুলগুলা বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?
বাড়িতে গুলগুলা তৈরির জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। হাতের কাছে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপকরণেই তৈরি করা যায় এই মিষ্টি।
উপকরণ:
আটা — ১ কাপ
চিনি — আধ কাপ, স্বাদ অনুযায়ী কমবেশি
খাবার সোডা — এক চিমটি
জল — প্রয়োজনমতো
ভাজার জন্য সাদা তেল — পরিমাণমতো
পরামর্শ: প্রথমবার বানালে অল্প পরিমাণে তৈরি করুন। চিনির পরিমাণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী সামঞ্জস্য করতে পারেন।
কীভাবে বানাবেন মুচমুচে ও তুলতুলে গুলগুলা?
মিশ্রণ তৈরি করুন
একটি পাত্রে আটা, চিনি ও এক চিমটি খাবার সোডা ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর অল্প অল্প করে জল দিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। মিশ্রণটি যেন খুব পাতলা না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
কিছুক্ষণ রেখে দিন
মিশ্রণটি ভালো করে ফেটিয়ে নিন, যাতে আটার দলা না থাকে। কয়েক মিনিট রেখে দিলে উপকরণগুলি ভালোভাবে মিশে যাবে। প্রয়োজনে সামান্য জল বা আটা দিয়ে ঘনত্ব ঠিক করে নিন।
তেল গরম করুন
কড়াইয়ে পরিমাণমতো তেল গরম করুন। তেল খুব বেশি গরম হলে গুলগুলার বাইরের অংশ দ্রুত লাল হয়ে গেলেও ভিতরটা কাঁচা থেকে যেতে পারে। তাই মাঝারি আঁচে ভাজার জন্য তেল প্রস্তুত রাখুন।
গোল আকারে ভেজে নিন
চামচের সাহায্যে অল্প অল্প ব্যাটার গরম তেলে ছেড়ে দিন। মিশ্রণ নিজে থেকেই গোলাকার আকার নিতে পারে। মাঝারি থেকে কম আঁচে উল্টেপাল্টে ভাজুন, যাতে ভিতর পর্যন্ত ভালোভাবে সেদ্ধ হয়।
সোনালি রং হলে তুলে নিন
গুলগুলা সোনালি-বাদামি রং ধারণ করলে তেল থেকে তুলে নিন। অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। এবার পরিবেশন করুন গরম গরম মিষ্টি গুলগুলা।
গুলগুলা বানানোর সময় কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?
গুলগুলা বাইরে মুচমুচে ও ভিতরে নরম করতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
ব্যাটার খুব পাতলা করবেন না, তাতে গুলগুলার আকার ঠিক নাও থাকতে পারে।
খাবার সোডা বেশি দিলে স্বাদ ও গন্ধে প্রভাব পড়তে পারে। তাই অল্প ব্যবহার করুন।
তেল অতিরিক্ত গরম রাখবেন না। মাঝারি আঁচে ধীরে ভাজলে ভিতর পর্যন্ত ভালোভাবে সেদ্ধ হবে।
একসঙ্গে অনেকগুলি গুলগুলা তেলে দেবেন না। এতে তেলের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।
ভাজার পর কিছুক্ষণ তেল ঝরিয়ে নিন, যাতে অতিরিক্ত তেল না থাকে।
কালীপুজোয় মা কালীর ভোগেও দিতে পারেন
কালীপুজোর সময় বাড়িতে নানা ধরনের মিষ্টি ও নৈবেদ্য তৈরি করা হয়। সেই তালিকায় রাখতে পারেন ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি গুলগুলাও। আটা ও চিনি দিয়ে সহজে বানানো যায় বলে পুজোর প্রস্তুতির মাঝেও এটি তৈরি করা সুবিধাজনক।তবে ভোগে নিবেদনের ক্ষেত্রে নিজের বাড়ির প্রচলিত রীতি ও পুজোর নিয়ম মেনে চলুন। চাইলে গুলগুলার পাশাপাশি অন্যান্য পরিচিত মিষ্টিও সাজিয়ে দিতে পারেন ভোগের থালায়।
গুলগুলার পাশাপাশি জনপ্রিয় তালের বড়াও
গ্রাম বাংলার মিষ্টি খাবারের তালিকায় গুলগুলার পাশাপাশি রয়েছে তালের বড়া। তাল দিয়ে তৈরি এই পদ বিশেষত তালের মরশুমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। উপকরণ ও স্বাদে পার্থক্য থাকলেও, দুই মিষ্টির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ঘরোয়া রান্না ও লোকজ খাদ্যসংস্কৃতি।সহজ উপকরণ, পরিচিত স্বাদ এবং তৈরির সুবিধার কারণেই হাটে-বাজারে আজও গুলগুলার কদর রয়েছে।
গ্রাম বাংলার হাটে-বাজারে এখনও সমান জনপ্রিয় মিষ্টি গুলগুলা। বাইরে হালকা মুচমুচে, ভিতরে নরম ও তুলতুলে এই মিষ্টি তৈরি করতে লাগে সামান্য আটা, চিনি, খাবার সোডা ও জল। সহজ উপকরণে অল্প সময়ে তৈরি করা যায় বলে বাড়িতেও বানিয়ে নিতে পারেন এই সাবেকি পদ। কালীপুজোর সময় চাইলে পুজোর ভোগের জন্যও তৈরি করতে পারেন গুলগুলা।













