কলকাতা: জন্ম পঞ্জাবে, কিন্তু ক্রিকেটের দুনিয়ায় নিজের পরিচয় তৈরি করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কলকাতায়। তাই ইডেন গার্ডেন্সের সঙ্গে হরভজন সিংয়ের সম্পর্ক যে শুধুই ক্রিকেট মাঠের নয়, তার প্রমাণ মেলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও। পঞ্জাবের জলন্ধরে নিজের বিলাসবহুল বাড়ি তৈরির সময় ইডেনের মাটি নিয়ে যাওয়ার বিশেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ভাজ্জি।
২০০১ সালেই বদলে যায় ভাগ্য
২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ হরভজন সিংয়ের ক্রিকেটজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই সময় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে তাঁর দুর্দান্ত বোলিং ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁকে নতুন পরিচিতি এনে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন হরভজন। গোটা সিরিজে তাঁর ঝুলিতে আসে ৩২টি উইকেট।এই পারফরম্যান্সের পরই ভারতীয় দলে তাঁর জায়গা অনেকটা পাকা হয়ে যায়। অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠেন তিনি।
সৌরভের উপর ছিল গভীর আস্থা
সেই সময় ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। হরভজনের উপর আস্থা রেখে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌরভের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে ভাজ্জি একাধিকবার জানিয়েছেন, তাঁর ক্রিকেটজীবনে সৌরভের অবদান তিনি কখনও ভুলতে পারবেন না।এই সম্পর্কের আবেগই ফের সামনে আসে ২০২৬ সালের ৩০ অগাস্ট ‘বিগ বস বাংলা’-র গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের মঞ্চে। সেখানে সৌরভের সঙ্গে একই মঞ্চে ছিলেন হরভজন। পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে তিনি সৌরভকে তাঁর ক্রিকেটজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন।
‘পুনর্জন্ম’ হয়েছিল কলকাতায়
হরভজনের কাছে কলকাতার গুরুত্ব বোঝা যায় তাঁর নিজের কথাতেই। পঞ্জাবে জন্ম হলেও ক্রিকেটার হিসেবে নিজের নতুন জীবন তিনি কলকাতাতেই পেয়েছেন বলে মনে করেন।২০০১ সালের সেই ঐতিহাসিক সিরিজের স্মৃতি তাঁর কাছে এতটাই মূল্যবান যে ইডেনের মাটিকে নিজের জীবনের সাফল্যের প্রতীক হিসেবেই দেখেছেন তিনি। আর সেই আবেগ থেকেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে ইডেনের মাটি চেয়েছিলেন হরভজন।
নিজের বাড়িতেও ক্রিকেটের ছাপ
জলন্ধরে হরভজন সিং ও তাঁর স্ত্রী গীতা বসরার তিনতলা বিলাসবহুল বাংলোতেও রয়েছে ক্রিকেটের নানা স্মৃতি। বাড়ির অন্দরসজ্জায় ক্রিকেটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রয়েছে আলাদা ‘ক্রিকেট ডেন’ বা স্পোর্টস বার, যেখানে সাজানো রয়েছে তাঁর ক্রিকেটজীবনের বিভিন্ন স্মারক।এমনকী ক্রিকেটের স্টাম্প ব্যবহার করেও বাড়ির কিছু আসবাব তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। ছাদেও রয়েছে ভার্টিকাল গার্ডেন।
ইডেনের মাটি কেন এত বিশেষ?
এই বাড়ির সবচেয়ে আবেগঘন অংশগুলির মধ্যে অন্যতম ইডেনের মাটি। যে মাঠে হরভজন নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য পেয়েছিলেন, সেই জায়গার মাটিকে নিজের বাড়ির সঙ্গে যুক্ত করার মধ্যে যেন তাঁর ক্রিকেটজীবনের প্রতি শ্রদ্ধাই প্রকাশ পেয়েছে।একদিকে সৌরভের আস্থা, অন্যদিকে ইডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—এই দুই স্মৃতিই হরভজনের ক্রিকেটজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে।
ক্রিকেটের মাঠ থেকে বাড়ির বাগান
ইডেন গার্ডেন্সে সাফল্যের পর বহু বছর কেটে গেলেও সেই মাঠের প্রতি হরভজনের আবেগ কমেনি। তাই পঞ্জাবে নিজের স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করার সময় কলকাতার ইডেনের মাটিকে সেখানে জায়গা দেওয়া তাঁর কাছে নিছক প্রতীকী ঘটনা নয়।যে মাটি তাঁর ক্রিকেটজীবনের অন্যতম বড় উত্থানের সাক্ষী, সেই মাটির অংশ নিজের বাড়ির সঙ্গে জুড়ে দিয়ে যেন কলকাতার প্রতি কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেছেন হরভজন। তাঁর কাছে তাই ইডেন শুধু একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নয়—এটি তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম।
পঞ্জাবে জন্ম হলেও হরভজন সিংয়ের ক্রিকেটজীবনের মোড় ঘুরেছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। সেই মাঠের সঙ্গে তাঁর আবেগ এতটাই গভীর যে নিজের স্বপ্নের বাড়ির বাগানেও ব্যবহার করেছিলেন ইডেনের মাটি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে বিশেষভাবে এই মাটি চেয়েছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার।









