নয়াদিল্লি: ট্রেনে যাতায়াতের সময় শুধু টিকিট ও লাগেজের নিয়ম জানলেই হবে না, এবার রেলের পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত বিধিও মাথায় রাখতে হবে। ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম কিংবা রেলস্টেশনে নোংরা করলে পকেট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে মোটা টাকা। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তাই রেলে যাতায়াতের আগে জেনে নিন কোন কোন কাজ এড়িয়ে চলতে হবে।
১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কী কী অপরাধে?
রেলের নতুন পরিচ্ছন্নতা বিধিতে বেশ কয়েকটি কাজকে শাস্তিযোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ট্রেন বা স্টেশনে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বা ফেলে রাখা
যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা
রেল চত্বরে প্রস্রাব করা
অনুমোদিত স্থান ছাড়া স্নান করা
রেল চত্বরে কাপড় বা বাসন ধোয়া
নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে পশু-পাখিকে খাবার দেওয়া
রেলের দেওয়াল বা সম্পত্তিতে পোস্টার লাগানো
রেলের সম্পত্তিতে লেখা, স্লোগান বা ছবি আঁকা
অর্থাৎ, ছোটখাটো অভ্যাস বলে কোনও কাজকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ট্রেনে খাবারের প্যাকেট ফেললেও সাবধান
ট্রেনে যাত্রার সময় খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, কাপ কিংবা অন্যান্য বর্জ্য সিটের পাশে বা কোচের মেঝেতে ফেলে রাখা নিয়মবিরুদ্ধ হতে পারে। আবর্জনা নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা Waste Disposal Point-এ ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।রেলের লক্ষ্য, যাত্রীদের সচেতন করার পাশাপাশি ট্রেন ও স্টেশন পরিষ্কার রাখা। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনে বিপুল সংখ্যক যাত্রী চলাচল করায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
থুতু ফেলা এবং ধোয়াধুলিও নিষেধের তালিকায়
রেলস্টেশন বা ট্রেনে যেখানে-সেখানে থুতু ফেলার অভ্যাসের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে রেল চত্বরে কাপড়, বাসন কিংবা অন্য কোনও জিনিস ধোয়ার মতো কাজও সমস্যার কারণ হতে পারে।এ ধরনের কাজের ফলে শুধু পরিবেশ নোংরা হয় না, অন্য যাত্রীদেরও অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। তাই নির্দিষ্ট সুবিধা ছাড়া রেল চত্বরে এসব কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রেলের দেওয়ালে পোস্টার বা লেখা? হতে পারে ব্যবস্থা
ট্রেনের কোচ, স্টেশনের দেওয়াল কিংবা রেলের অন্য সম্পত্তিতে অনুমতি ছাড়া পোস্টার লাগানো বা কিছু লেখা থেকেও এবার সতর্ক থাকতে হবে। স্লোগান লেখা, ছবি আঁকা কিংবা কোনওভাবে রেলের সম্পত্তি নোংরা বা ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
পশু-পাখিকে খাবার দেওয়াতেও নিয়ম
রেল চত্বরে পশু বা পাখিকে খাবার দেওয়ার বিষয়টিও নতুন বিধিতে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে এমন জায়গায় নির্ধারিত স্থান ছাড়া খাবার দিলে, যেখানে নোংরা পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বা যাত্রীদের অসুবিধা হতে পারে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জরিমানা না দিলে আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে মামলা
শুধু জরিমানা ধার্য হওয়াই শেষ কথা নয়। নির্ধারিত ফাইন পরিশোধ না করলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।তাই রেলযাত্রার সময় নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। নিজের ব্যবহারের আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা এবং রেলের সম্পত্তি পরিষ্কার রাখা যাত্রীদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
ট্রেন কিংবা রেলস্টেশনে অপরিচ্ছন্নতা তৈরি করলে এবার আরও বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে যাত্রীদের। ২৪ অগস্ট ২০২৬-এর Gazette Notification-এর পর রেলের Cleanliness Rules-এ জরিমানার অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। আবর্জনা ফেলা থেকে শুরু করে থুতু ফেলা, রেলের সম্পত্তিতে লেখা কিংবা নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে পশু-পাখিকে খাবার দেওয়ার মতো কাজও নিয়মের আওতায় এসেছে।










