ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই সকালে অল্প খেয়ে অফিসে বেরিয়ে পড়েন, দুপুরে তাড়াহুড়ো করে লাঞ্চ সারেন, আর রাতে বাড়ি ফিরে পেট ভরে খেয়ে নেন। কিন্তু এই অভ্যাস কি শরীরের জন্য উপকারী? পুষ্টিবিদ অমলকান্তি বিশ্বাসের মতে, সুস্থ থাকতে দিনের প্রধান খাবার হওয়া উচিত দুপুরের লাঞ্চ। কারণ দিনের বেলায় শরীর বেশি সক্রিয় থাকে এবং সেই সময় পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়।
কেন দুপুরের লাঞ্চ বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলায় কাজকর্ম, হাঁটাচলা এবং শারীরিক সক্রিয়তা বেশি থাকায় শরীরের শক্তির চাহিদাও বেশি থাকে।তাই দুপুরে সুষম ও পরিমিত খাবার খেলে শরীর সেই শক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে। এতে কর্মক্ষমতা বজায় থাকে এবং দীর্ঘ সময় পেটও ভরা থাকে।
দুপুরের খাবারে কী কী থাকা উচিত?
পুষ্টিবিদদের মতে, একটি আদর্শ লাঞ্চে থাকতে পারে—
ভাত বা রুটি
ডাল
শাকসবজি
মাছ, ডিম অথবা পরিমিত পরিমাণে মাংস
স্যালাড ও মৌসুমি সবজি
তবে বেশি লাঞ্চ মানেই অতিরিক্ত ভাত বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার নয়। বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাতের খাবার কেমন হওয়া উচিত?
রাতে শরীরের কার্যকলাপ কমে যায় এবং ঘুমের প্রস্তুতি শুরু হয়। তাই রাতের খাবার হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিনারে রাখতে পারেন—
অল্প ভাত বা রুটি
ডাল
সবজি
হালকা প্রোটিনজাতীয় খাবার
ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে অন্তত ২–৩ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা ভালো।
দুপুরে না খেয়ে রাতে বেশি খেলে কী হতে পারে?
পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের বেলা খাবার এড়িয়ে রাতে অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে—
বদহজম
গ্যাস ও অম্বল
ওজন বৃদ্ধি
বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব
তাই নিয়মিত খাবারের সময় বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য কয়েকটি পরামর্শ
সকালের নাশতা বাদ দেবেন না।
দুপুরে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
রাতে হালকা খাবার বেছে নিন।
নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পর্যাপ্ত জল পান ও নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
দিনের সবচেয়ে বড় খাবার কি দুপুরে হওয়া উচিত, নাকি রাতে? পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরের শক্তির চাহিদা ও বিপাকক্রিয়ার কথা বিবেচনা করলে দুপুরের খাবার তুলনামূলক বেশি পুষ্টিকর ও পরিপূর্ণ হওয়াই ভালো। অন্যদিকে রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা এবং সহজপাচ্য।













