ঘুম থেকে উঠেই মেঝেতে পা ফেলতে ভয় লাগে? গোড়ালিতে যেন ছুরি বিঁধছে! এমন সমস্যায় ভুগছেন বহু মানুষ। বয়স নির্বিশেষে এখন গোড়ালির ব্যথা হয়ে উঠেছে এক সাধারণ কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবহেলা করলে এই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে সময়মতো যত্ন নিলে এবং কিছু সহজ পদ্ধতি মেনে চললে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কেন বাড়ছে গোড়ালির ব্যথার সমস্যা?
অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ শক্ত মেঝেতে দাঁড়িয়ে কাজ করা, একটানা হাঁটা, অস্বস্তিকর জুতো ব্যবহার এবং ওজন বৃদ্ধি—এই সমস্যার প্রধান কারণ। অনেক ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে থাকে ‘প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস’। এতে পায়ের তলার লিগামেন্টে প্রদাহ তৈরি হয়, যার ফলে হাঁটা-চলাও কঠিন হয়ে পড়ে।বিশেষ করে যাঁদের ফ্ল্যাট ফুট বা চ্যাপ্টা পায়ের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
সকালে কেন বাড়ে যন্ত্রণা?
এই সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল সকালে বিছানা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করা। অনেকেই বলেন, প্রথম কয়েক পা হাঁটা যেন অসহ্য হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ চলাফেরার পর ব্যথা খানিক কমলেও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে আবার সমস্যা বাড়ে।চিকিৎসকদের মতে, এটি অবহেলা করলে ফোলাভাব বাড়তে পারে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হতে পারে।
বরফের সেঁকেই মিলতে পারে দ্রুত আরাম
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দিনে দুই থেকে তিনবার ১০-১৫ মিনিট বরফ সেঁক দিলে গোড়ালির ফোলা ও ব্যথা অনেকটাই কমতে পারে। বরফ সরাসরি ত্বকে না লাগিয়ে কাপড়ে মুড়ে ব্যবহার করাই ভাল।এছাড়াও হালকা গরম নুন জলে পা ডুবিয়ে রাখলেও আরাম পাওয়া যায়। অনেকেই সর্ষের তেল বা নারকেল তেল দিয়ে হালকা মালিশ করে উপকার পান, কারণ এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং পেশির টান কমে।
আরামদায়ক জুতোই হতে পারে ‘গেমচেঞ্জার’
চিকিৎসকদের মতে, শক্ত সোলের জুতো বা খালি পায়ে হাঁটা এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নরম, কুশনযুক্ত এবং আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করা জরুরি। প্রয়োজনে হিল প্যাড বা বিশেষ কুশন সোল ব্যবহার করারও পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।এতে হাঁটার সময় গোড়ালির উপর চাপ কম পড়ে এবং ব্যথাও কম অনুভূত হয়।
স্ট্রেচিং ও বিশ্রামেও বড় উপকার
ঘুম থেকে ওঠার পর পায়ের পেশি ও গোড়ালি হালকা স্ট্রেচ করলে অনেকটাই আরাম মেলে। পাশাপাশি পায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রামও জরুরি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করলে মাঝেমধ্যে বসে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলেও গোড়ালির উপর চাপ কমে এবং ব্যথা হ্রাস পায়।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যথা চলতেই থাকে, হাঁটতে সমস্যা হয় বা ফোলাভাব বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ অনেক সময় সাধারণ ব্যথার আড়ালেও বড় সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা—এখন বহু মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস, ভুল জুতো, অতিরিক্ত ওজন বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করার কারণেই বাড়ছে এই যন্ত্রণা। তবে বরফ সেঁক, হালকা স্ট্রেচিং ও কিছু সহজ ঘরোয়া টোটকায় মিলতে পারে দ্রুত আরাম।













