শীতের সকালে নরম রোদ, চারদিকে ফুলের গন্ধ আর পাখির কলরব—এই আবহেই হাওড়ার ফুলেশ্বরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বসু বাংলো। ফুলেশ্বর স্টেশনের কাছেই অবস্থিত এই বিলাসবহুল বাংলো ও তার মনোরম বাগান এখন শুধু স্থানীয় নয়, দূরদূরান্তের মানুষের কাছেও জনপ্রিয় এক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
ফুলে মোড়া বসু বাংলোর প্রথম দর্শন
খোলা আকাশের নীচে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সুবিশাল বসু বাংলো দেখলেই চোখ আটকে যায়। বাংলোর সামনের বাগানজুড়ে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ, সারি সারি রঙিন ফুল আর সুপরিকল্পিত ফোয়ারা—সব মিলিয়ে যেন এক রাজকীয় পরিবেশ। হাওড়া জেলায় এমন সুবিন্যস্ত ব্যক্তিগত বাগান খুব কমই নজরে আসে।
শীত এলেই বাড়ে দর্শনার্থীর ভিড়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীতের শুরু থেকেই বসু বাংলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ, প্রকৃতিপ্রেমী, এমনকি ফটোগ্রাফারদেরও ভিড় চোখে পড়ার মতো। সকালের দিকে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসেন ফুলের সৌন্দর্য আর শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে।
ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও সাধারণের জন্য খোলা
ফুলেশ্বর স্টেশনের খুব কাছেই অবস্থিত এই বাংলোটি বসু পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তবে বাড়ির মালিক দুর্গা বসুর উদ্যোগে ও সৌজন্যে সাধারণ মানুষও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই বাগান ও বাংলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এই উদার মনোভাবই বসু বাংলোকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণেই এই বাগান
এই বাগান কেবল সৌন্দর্যের প্রদর্শনী নয়, এটি এক আবেগঘন স্মৃতিসৌধ। দুর্গা বসু জানান, তাঁর স্ত্রী শেফালী বসুর স্বপ্ন ছিল—নিজের বাড়ির সামনে থাকবে ফুলে ভরা বাগান, পাখির গুঞ্জনে মুখর পরিবেশ। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই গড়ে তোলা হয়েছে এই বাংলো ও বাগান। বাগানের মধ্যেই রয়েছে শেফালী বসুর একটি পূর্ণ মূর্তি, যা দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যায়।
পরিবারজুড়ে গাছের প্রতি ভালোবাসা
দুর্গা বসু জানান, শৈশব থেকেই গাছ ও বাগান তৈরির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল। ভাই উমাপ্রসাদ বসুর সঙ্গে গাছ তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। বাবার কাছ থেকেই এই নেশার শুরু। বর্তমানে ভাইপো সোমনাথ বসু ও ভাই উমাপ্রসাদ বসু নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করেন। পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও এই ভালোবাসা বহন করছে—দুর্গা বসুর ছেলে পেশায় চিকিৎসক হলেও গাছের প্রতি তাঁর আলাদা টান রয়েছে।
হাওড়ার ফুলেশ্বরে রেলস্টেশনের অদূরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বসু বাংলো এখন শীতের মরসুমে অন্যতম আকর্ষণ। সুবিশাল বাংলোর সামনে সাজানো রঙিন ফুলের বাগান, ফোয়ারা ও আবেগঘন স্মৃতিচিহ্ন দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।













