এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই যেন থমকে গেল হাওড়ার ব্যস্ত রাস্তা। শুক্রবার দুপুরের পর আচমকা প্রবল বর্ষণে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ চলে গেল জলের তলায়। নিবড়া, অঙ্কুরহাটি, আলমপুর, ধুলাগড়-সহ বিভিন্ন এলাকায় জল জমে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকেরা। জাতীয় সড়কের সঙ্গে সার্ভিস রোডও প্রায় একাকার হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক
শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে টানা বৃষ্টির জেরে দ্রুত জল জমতে শুরু করে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে।বিশেষ করে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের দুই লেনের একাধিক জায়গা জলের তলায় চলে যায়। অঙ্কুরহাটি থেকে সরস্বতী ব্রিজের মধ্যবর্তী বেশ কিছুটা অংশেও জল জমে যায়। ফলে ব্যস্ত এই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
নিবড়া থেকে ধুলাগড়—বিভিন্ন জায়গায় একই ছবি
জল জমার সমস্যা শুধু একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না। নিবড়া, অঙ্কুরহাটি, আলমপুর এবং ধুলাগড়-সহ জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে বৃষ্টির জল দাঁড়িয়ে যায়।কোথাও রাস্তার বেশিরভাগ অংশ জলের নিচে চলে যায়, আবার কোথাও আংশিক জল জমে থাকায় গাড়িচালকদের রাস্তা বেছে চলতে দেখা যায়। জল কতটা গভীর, তা বোঝা কঠিন হওয়ায় বিশেষ করে ছোট গাড়ি ও বাইক চালকদের সমস্যা বেশি হয়।
জাতীয় সড়ক আর সার্ভিস রোড যেন এক হয়ে গেল
জল জমার ফলে বেশ কিছু জায়গায় জাতীয় সড়ক এবং সার্ভিস রোডের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য থাকেনি। মাঝখানে শুধু ব্যারিকেডগুলি জেগে ছিল।অন্যদিকে সার্ভিস রোডের আগের বেহাল অবস্থাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। তার উপর জল জমে যাওয়ায় গর্তগুলি চোখে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বাইক ও ছোট গাড়ির চালকদের বেশি ভোগান্তি
জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাইক আরোহী এবং ছোট গাড়ির চালকেরা। রাস্তার কোথায় কতটা জল রয়েছে, তা বুঝতে না পেরে অনেককেই ধীরে গাড়ি চালাতে হয়েছে।কিছু জায়গায় চালকদের জমা জল এড়িয়ে অন্য অংশ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। এর ফলে ব্যস্ত জাতীয় সড়কে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি কমে যায়।
অঙ্কুরহাটি হাটেও প্রভাব
জল জমার প্রভাব পড়েছে অঙ্কুরহাটি হাটে আসা মানুষজনের উপরও। বৃষ্টির জলে রাস্তা ও সংলগ্ন অংশ ডুবে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়।জাতীয় সড়কের পাশাপাশি হাটের আশপাশের সার্ভিস রোডের অবস্থাও খারাপ হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বর্ষার শুরু থেকেই বেহাল সার্ভিস রোড
স্থানীয় পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে সার্ভিস রোডের পরিকাঠামো নিয়েও। বর্ষার শুরু থেকেই এই রাস্তার অবস্থা খারাপ বলে অভিযোগ। সময় যত এগিয়েছে, রাস্তার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।বৃষ্টির মধ্যে জল জমলে রাস্তার গর্তগুলি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কয়েকদিন বৃষ্টি বন্ধ থাকার সময় স্থানীয়রা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ফের ভারী বৃষ্টিতে সেই সমস্যা সামনে এসেছে।
সবচেয়ে বেশি জল কোলাঘাটগামী লেনে
জানা গিয়েছে, কোলাঘাটগামী লেনের নিবড়া থেকে অঙ্কুরহাটি হয়ে সরস্বতী ব্রিজের মধ্যবর্তী অংশে জল জমার সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় যানবাহনের চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।পরপর বৃষ্টি হলে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার দুপুরের পর প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হাওড়ার একাধিক এলাকা। প্রায় এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জাতীয় সড়কের পাশাপাশি সার্ভিস রোডেও জল জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ফলে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে।











