রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে আইনি চাপ আরও বাড়ল নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। মঙ্গলবার একই দিনে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতার ভবানীপুর থানায় নতুন অভিযোগ দায়ের হওয়ার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ তদন্তে হাজিরার নোটিস দিয়েছে। একাধিক মামলার জেরে এখন প্রশ্ন উঠছে—তাঁকে কি গ্রেফতার করা হতে পারে? যদিও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।
![]()
ভবানীপুরেও দায়ের হল নতুন অভিযোগ
হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কলকাতার ভবানীপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তাঁর কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
একদিনে দুই থানার নোটিস, বাড়িতে পৌঁছল পুলিশ
মঙ্গলবার সকালেই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ বিধায়কের শক্তিপুরের বাড়িতে পৌঁছে পৃথক দুটি নোটিস দেয়। সেই সময় হুমায়ুন কবীর ও তাঁর ছেলে বাড়িতে না থাকায় নোটিস গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী। একটি মামলায় ৩ জুলাই এবং অন্য মামলায় ৪ জুলাই তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে।
![]()
কোন বক্তব্যকে ঘিরে তদন্ত?
পুলিশ সূত্রের দাবি, সম্প্রতি দুটি পৃথক রাজনৈতিক সভায় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই সুয়ো মোটো মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, এক সভায় থানার এক আধিকারিককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। অন্য সভায় উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগও উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় তদন্ত চলছে।
মামলার উদ্যোক্তাদের গ্রেফতার, তদন্তে নতুন মোড়
এই দুই রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত তিনজন উদ্যোক্তাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালত তাঁদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশও দিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন সভার আয়োজন, বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।
![]()
গ্রেফতার কি অনিবার্য?
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দায়ের হওয়া মামলাগুলির কয়েকটি ধারা জামিন-অযোগ্য। তবে আইনের দৃষ্টিতে শুধুমাত্র নোটিস জারি হওয়া মানেই গ্রেফতার নয়। নির্ধারিত সময়ে হাজিরা না দেওয়া, তদন্তে অসহযোগিতা করা বা তদন্তে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সামনে এলে তবেই গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ফলে বর্তমানে বিষয়টি সম্পূর্ণ তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
হুমায়ুন কবীরের ছেলে জানিয়েছেন, পুলিশ যখন নোটিস দিতে যায়, তখন তিনি ও তাঁর বাবা বহরমপুরে ছিলেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তদন্তে সহযোগিতা করা হবে।
![]()
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পর এবার কলকাতার ভবানীপুর থানাতেও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দুই থানার পৃথক মামলায় তদন্তে হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়েছে। মামলার কয়েকটি ধারা জামিন-অযোগ্য হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র নোটিস পাওয়াই গ্রেফতারের সমান নয়।









