Internet Speed in India: বারবার ইন্টারনেট স্লো হওয়া, ভিডিও বাফারিং বা কল ড্রপ—এই সমস্যা এবার অতীত হতে চলেছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের স্বার্থে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। ৬ GHz Wi-Fi ব্যান্ডকে লাইসেন্সমুক্ত করার ফলে ভারতের ঘরে ঘরে শুরু হতে চলেছে সুপারফাস্ট ওয়্যারলেস ইন্টারনেটের নতুন অধ্যায়।

৬ GHz Wi-Fi ব্যান্ড লাইসেন্সমুক্ত করল DoT
টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DoT) ৫৯২৫ MHz থেকে ৬৪২৫ MHz পর্যন্ত মোট ৫০০ MHz ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড লাইসেন্সিং বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এর ফলে কম-পাওয়ার ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস সিস্টেমের জন্য আর আলাদা লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
এখনও পর্যন্ত ভারতীয়রা মূলত ২.৪ GHz ও ৫ GHz ব্যান্ডে Wi-Fi ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু ডিভাইসের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যান্ডে ট্রাফিক জ্যাম তৈরি হচ্ছিল। নতুন ৬ GHz ব্যান্ড এই চাপ কমাবে এবং ফাইবার ব্রডব্যান্ডের কাছাকাছি গতি দেবে Wi-Fi-তেই।

Wi-Fi 6E ও Wi-Fi 7 প্রযুক্তির পথ খুলল
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে দ্রুত বিস্তার ঘটবে Wi-Fi 6E ও Wi-Fi 7 প্রযুক্তির। অনলাইন গেমিং, 4K-8K ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্লাউড ওয়ার্ক এবং হাই-ডেফিনেশন ভিডিও কলিং হবে আরও মসৃণ ও ল্যাগ-ফ্রি।
স্মার্ট হোম ও অফিসে বড় সুবিধা
একই সঙ্গে বহু ডিভাইস—মোবাইল, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি, CCTV, IoT ডিভাইস—সংযুক্ত থাকলেও আর নেটওয়ার্ক ড্রপ হবে না। বড় অফিস, শপিং মল ও পাবলিক স্পেসে শত শত ইউজার একই সময়ে দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

৬জি ভবিষ্যতের দিকেও এক ধাপ এগোল ভারত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু বর্তমান Wi-Fi পরিষেবাকে শক্তিশালী করবে না, বরং ভবিষ্যতের ৬জি (6G) প্রযুক্তির পরিকাঠামো গড়ে তুলতেও সাহায্য করবে। দেশীয় ব্রডব্যান্ড যন্ত্রপাতি নির্মাতাদের জন্যও এটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ এনে দেবে।

টেলিকম বনাম টেক কোম্পানির বিতর্কে মধ্যম পথ
একদিকে অ্যাপল, মেটা ও অ্যামাজনের মতো টেক সংস্থাগুলি পুরো ১২০০ MHz স্পেকট্রাম মুক্ত করার দাবি জানিয়েছিল। অন্যদিকে রিলায়েন্স জিওর মতো টেলিকম সংস্থাগুলি নিলামের পক্ষে ছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার ৫০০ MHz লাইসেন্সমুক্ত করে একটি মধ্যম সমাধান বেছে নিল।

ভারতে ইন্টারনেট পরিষেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল কেন্দ্র সরকার। টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DoT) ৬ GHz Wi-Fi ব্যান্ডের ৫০০ MHz স্পেকট্রাম লাইসেন্সমুক্ত করেছে। ফলে বাড়ি ও অফিসে মিলবে আরও দ্রুত, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত ইন্টারনেট পরিষেবা।













