আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা: জাতিসংঘে ভারতের তীব্র নিন্দা

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা: জাতিসংঘে ভারতের তীব্র নিন্দা

জাতিসংঘে ভারত আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ভারত এটিকে UN Charter-এর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে এই ধরনের হামলা মানবিক সংকট আরও বাড়িয়ে তোলে। ভারত আফগান নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্বেরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।

বিশ্ব সংবাদ: আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার বিষয়ে জাতিসংঘে ভারত অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভারত কেবল এই হামলাগুলোকে UN Charter এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেনি, বরং পাকিস্তানের নীতির ওপর সরাসরি আক্রমণও করেছে। 

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেছেন যে, ইতিমধ্যেই গুরুতর মানবিক সংকট মোকাবিলা করছে এমন আফগানিস্তানের ওপর এই ধরনের হামলা নিরীহ নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ভারত জাতিসংঘে জোর দিয়ে বলেছে যে, নিরীহ মানুষের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এবং কোনো দেশেরই “নিরীহ নাগরিকদের হত্যার অধিকার নেই।”

পাকিস্তানের বিমান হামলা নিয়ে ভারতের কঠোর বিবৃতি

জাতিসংঘে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেছেন যে, আফগানিস্তানে পাকিস্তান কর্তৃক পরিচালিত বিমান হামলা সম্পূর্ণরূপে UN Charter-এর লঙ্ঘন। ভারতের মতে, এটি কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে নয়, বরং এর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

ভারত বলেছে যে, আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই মানবিক সংকট, খাদ্য ঘাটতি এবং অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিমান হামলা নিরীহ নাগরিকদের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে। ভারত স্পষ্টভাবে বলেছে যে, আমরা মানবিক আইনকে সম্মান করি এবং যে কোনও মূল্যে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।

বাণিজ্য এবং ট্রানজিট বন্ধের বিষয়ে ভারতের তীব্র আক্রমণ

ভারত পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে বলেছে যে, তারা আফগানিস্তানের সাথে “বাণিজ্য এবং ট্রানজিট সন্ত্রাসবাদ” করছে। পাকিস্তান আফগানিস্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

ভারত বলেছে যে, এই আচরণ WTO-এর নিয়মাবলীর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একটি দেশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি, যা ইতিমধ্যেই পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ভারত এই পদক্ষেপকে “যুদ্ধ-সদৃশ কাজ” বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে, এই ধরনের নীতি কেবল অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে।

আফগানিস্তান একটি স্থলবেষ্টিত দেশ (Landlocked Country) এবং এর বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় জিনিস সীমান্ত অতিক্রম করে আসে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া সরাসরি জনগণের জন্য সমস্যা তৈরি করা।

আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব

ভারত জাতিসংঘে বলেছে যে, তারা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। ভারত বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন করেছে যে, আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক নীতি গ্রহণ করা উচিত।

ভারতের মতে, শুধুমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নত হবে না। বরং তালেবানের সাথে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা করা প্রয়োজন যাতে জনগণ ত্রাণ পায়।

ভারত সতর্ক করেছে

ভারত জাতিসংঘে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি তখনই সম্ভব হবে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে। ভারত সেই বিপজ্জনক সংস্থাগুলোর একটি তালিকা পেশ করেছে যেগুলো ক্রমাগত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এতে ISIS (ISIL), আল-কায়েদা, লস্কর-এ-তায়্যেবা, জয়েশ-এ-মুহাম্মদ এবং তাদের সহযোগী সংগঠন, যার মধ্যে কথিত “রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট”ও রয়েছে, প্রধানত উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের মতে, এই সংগঠনগুলো কেবল সীমান্ত পার সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে না, বরং তারা তহবিল, অস্ত্র এবং পরিচালনাগত সহায়তাও পায়, যা তাদের শক্তিকে ক্রমাগত বাড়িয়ে তোলে।

Leave a comment