ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ঐকমত্য হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে এবং সূত্র অনুযায়ী, এই চুক্তি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে।
India US Trade: ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখন পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। উভয় দেশের মধ্যে ওয়াশিংটনে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছে এবং সম্ভবত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পাবে। এই চুক্তি নিয়ে উভয় দেশের দল দ্রুত কাজ করছে।
ওয়াশিংটনে চলছে আলোচনা
ভারতীয় বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে উপস্থিত রয়েছে এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা করছে। সূত্রানুসারে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে, যেগুলিতে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে, এই চুক্তি মার্কিন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রস্তাবিত শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের আগেই সম্পন্ন হয়ে যাবে।
৯ জুলাই সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কারণ হল, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হলে, তিনি ৯ জুলাইয়ের পরে ভারত থেকে আমেরিকায় আসা অনেক পণ্যের উপর শুল্ক বাড়াতে পারেন। এটি বিবেচনা করে ভারত ও আমেরিকা উভয়ই এই চুক্তি সময়মতো চূড়ান্ত করতে চাইছে।
কৃষি এবং দুগ্ধ খাতে আটকে আছে বিষয়
সবচেয়ে বড় বিতর্ক ভারতীয় কৃষি এবং দুগ্ধ ক্ষেত্র নিয়ে। আমেরিকা চায় যে ভারত এই ক্ষেত্রগুলিতে মার্কিন পণ্যের জন্য আরও বেশি বাজার প্রবেশের অনুমতি দিক। যদিও ভারত এখন পর্যন্ত এই দাবিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নতুন দিল্লি মনে করে যে, এর ফলে ভারতীয় কৃষক এবং গ্রামীণ জীবিকার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্রানুসারে, ভারত আমেরিকা’কে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা জেনেটিকালি মডিফাইড বা হাইব্রিড শস্য, যেমন ভুট্টা, সয়াবিন, চাল এবং গমের উপর তাদের অভ্যন্তরীণ শুল্ক কম করবে না। এটি ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ কাঠামোর জন্য হুমকি হতে পারে।
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট
ভারতের সিনিয়র বাণিজ্য কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, কিছু ক্ষেত্রে কোনও আপস সম্ভব নয়। ভারতের প্রধান লক্ষ্য হল একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক সুবিধার চুক্তি, যা উভয় দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। ভারত আরও নিশ্চিত করতে চায় যে দেশের কৃষি নীতি, কৃষকদের স্বার্থ এবং খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।
ট্রাম্পের শুল্ক কৌশল
উল্লেখ্য, এই বছর এপ্রিল মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প 'লিবারেশন ডে' ঘোষণা করে অনেক দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন। তিনি ভারত সহ একাধিক দেশ থেকে আসা পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও পরে তিনি এতে আংশিকভাবে নরম মনোভাব দেখিয়ে শুল্ককে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সীমিত করেন।
মার্কিন কোম্পানিগুলির জন্য সুযোগ
ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে যে, এই চুক্তি মার্কিন কোম্পানিগুলিকে ভারতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করতে সাহায্য করবে। ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই চুক্তি শুল্ক কম করবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলিকে ভারতের ১.৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেবে।








