২০২৫ সালে ভারতীয় আইপিও (IPO) বাজার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। কোম্পানিগুলো ১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় রয়েছেন। তবে, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ইস্যু মূল্যের (Issue Price) নিচে ট্রেড করছে।
আইপিও আপডেট: এই বছর ভারতীয় শেয়ার বাজারে আইপিও-র (IPO) ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক পাবলিক অবচয় (Initial Public Offering) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো ১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। ব্লুমবার্গ প্রকাশিত ডেটার (Data) অনুযায়ী, এটি গত বছরের ১.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার চেয়ে বেশি। রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের কারণে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আইপিও বাজারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আস্থা রয়েছে, এবং কোম্পানিগুলোও এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তহবিল সংগ্রহে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ
நாட்டில் ছোট অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, যার ফলে কোম্পানিগুলো বাজারে অর্থ সংগ্রহ করতে সুবিধা পাচ্ছে। ভারতে ডিমেট (Demat) অ্যাকাউন্টের দ্রুত বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মগুলোর সহজলভ্যতা আইপিও-র (IPO) প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোম্পানিগুলো বুঝতে পারছে যে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার মধ্যে তহবিল সংগ্রহ করা আগের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে। এই কারণে, অনেক কোম্পানি বিশ্ব পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন, যাতে তারা তাদের সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করতে পারেন।
বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ
যদিও বিদেশি संस्थाগত বিনিয়োগকারীরা (FII) সাধারণ বাজারে বিক্রয় চালাচ্ছেন, আইপিও-তে (IPO) তাদের আগ্রহ এখনও বেশ শক্তিশালী। এর কারণ হল ভারতের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক নীতি এবং ভালো প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মনে করেন যে ভারতীয় বাজার দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তাই তারা নতুন আইপিও-তে (IPO) বিনিয়োগ করা থেকে পিছপা হচ্ছেন না। এই প্রবণতা ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রতিফলিত করে।
নতুন তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিগুলো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, এই বছর ভারতীয় বাজারে তালিকাভুক্ত ৩৩০টির বেশি কোম্পানির মধ্যে প্রায় অর্ধেকই তাদের ইস্যু মূল্যের (Issue Price) নিচে ট্রেড করছে। এর মানে হল বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক লাভ বা তালিকাভুক্তির লাভ (Listing Gain) পাচ্ছেন না।
এই পরিস্থিতি থেকে এটা স্পষ্ট যে প্রতিটি আইপিও (IPO) ভালো পারফর্ম করে না এবং বিনিয়োগকারীদের শুধুমাত্র সাবস্ক্রিপশন দেখে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সতর্কবার্তা যে আইপিও-তে (IPO) বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানির মৌলিক বিষয় (Fundamentals), লাভজনকতা (Profitability), ঝুঁকি কারণ (Risk Factors) এবং মূল্যায়ন (Valuation) সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝা দরকার।
আইপিও-র (IPO) জোয়ার, তবে সঠিক নির্বাচন প্রয়োজন
আইপিও-তে (IPO) রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হওয়া ভারতীয়তে বিনিয়োগের পরিবেশ খুবই শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কোম্পানিগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেগুলোর জন্য বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন। তবে, এই দ্রুত জোয়ারের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সাথে অগ্রসর হওয়া উচিত, কারণ বাজারে অনেক কোম্পানি বেশি মূল্যে (Overvalued) শেয়ার বিক্রি করছে। তাই আইপিও (IPO) আসার মানে এই নয় যে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো রিটার্ন পাওয়া যাবে।











