ভারতীয় গবেষকরা স্ক্যান্ডিয়াম নাইট্রাইডের অত্যন্ত পাতলা স্তরে ম্যাগনেশিয়াম মিশিয়ে একটি নতুন সেমিকন্ডাক্টর উপাদান তৈরি করেছেন। প্রায় ২০০ ন্যানোমিটার পুরু এই স্তরে ঘরের তাপমাত্রায় প্রত্যাশার তুলনায় কয়েকশো গুণ বেশি ভোল্টেজ উৎপন্ন হতে দেখা গেছে।
এই প্রযুক্তি সিবেক ইফেক্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কোনো ধাতু বা সেমিকন্ডাক্টরের একটি অংশ গরম এবং অন্য অংশ ঠান্ডা করা হলে দুই অংশের মধ্যে বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ তৈরি হয়।
এখন পর্যন্ত কঠিন উপাদানে এই প্রক্রিয়ায় সীমিত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হওয়ার কথা মনে করা হতো। বেশি আউটপুটের জন্য লিকুইড ইলেক্ট্রোলাইট বা জেলের মতো উপাদান ব্যবহার করা হতো। নতুন গবেষণায় কঠিন ক্রিস্টাল থেকেও শক্তিশালী বৈদ্যুতিক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
![]()
গবেষকরা স্ক্যান্ডিয়াম নাইট্রাইডের স্তরে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে ম্যাগনেশিয়াম মিশিয়েছেন। এর ফলে উপাদানটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জের বণ্টনে পরিবর্তন এসেছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, স্তরের পুরুত্ব কমানোর সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বেড়েছে। প্রায় ২০০ ন্যানোমিটার পুরু স্তরে ঘরের তাপমাত্রায় প্রত্যাশার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভোল্টেজ রেকর্ড করা হয়েছে।
গবেষণা দলটি এই প্রযুক্তির ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক লাইট সেন্সরও তৈরি করেছে। সেন্সরটির ওপর লেজার আলো পড়লে দ্রুত ভোল্টেজ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত সংবেদনশীল লাইট সেন্সর, হিট ডিটেক্টর এবং কোয়ান্টাম ডিভাইসে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের দলটি এই আবিষ্কারের জন্য পেটেন্টও দাখিল করেছে।








