ভারতীয় শেয়ারবাজারে টানা তৃতীয় লেনদেন সেশনে পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর শেয়ারে, পাশাপাশি বিস্তৃত বাজারেও বিক্রির চাপ দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবারের প্রাথমিক লেনদেনে বিএসই সেনসেক্স এক সময় 600 পয়েন্টের বেশি নেমে যায়। একই সময়ে এনএসই নিফটি 50 24,000-এর মনস্তাত্ত্বিক স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সকাল প্রায় 9:40 মিনিটে সেনসেক্স 575.29 পয়েন্ট বা 0.74% কমে 76,894.82 পয়েন্টে লেনদেন করছিল। একই সময়ে নিফটি 50 সূচক 159.15 পয়েন্ট বা 0.66% কমে 24,028.55 পয়েন্টে অবস্থান করছিল।
বাজারের পতনের প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন শুল্ক নীতি ঘিরে অনিশ্চয়তাকে দেখা হচ্ছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ এবং ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখযোগ্য ব্যবসা রয়েছে। ফলে আমদানি শুল্ক বাড়ার সম্ভাবনায় কোম্পানিগুলোর ব্যয়, মার্জিন এবং রপ্তানি ব্যবসার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
![]()
শুল্ক-সংক্রান্ত ঘোষণার পর ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর শেয়ারে চাপ দেখা যায়। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান এবং লাভজনকতা প্রভাবিত হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা। ফার্মা খাতের পাশাপাশি অন্যান্য বড় শেয়ারেও বিক্রির চাপ ছিল। সেনসেক্সভুক্ত 30টি কোম্পানির মধ্যে 25টির শেয়ার নিম্নমুখী ছিল।
ইন্ডিগোর শেয়ারে সর্বাধিক পতন দেখা গেছে। এছাড়া সান ফার্মা, ইনফোসিস, টেক মহিন্দ্রা, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI), এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, টিসিএস, বাজাজ ফিনসার্ভ এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর শেয়ারও চাপে ছিল। অন্যদিকে বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতার মধ্যেও মারুতি সুজুকি, মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা, ট্রেন্ট, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার এবং ইটারনালের শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
শেয়ারবাজারে পতনের পাশাপাশি ভারতীয় রুপিও মার্কিন ডলারের বিপরীতে দুর্বল অবস্থায় লেনদেন শুরু করে। প্রাথমিক লেনদেনে রুপি প্রায় 0.1% কমে প্রতি ডলারে 96.3425-এ পৌঁছায়। আগের লেনদেন সেশনে এটি 96.2350-এ বন্ধ হয়েছিল।
রুপির দুর্বলতা এবং শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য বিক্রির মধ্যে বাজার অংশগ্রহণকারীদের নজর এখন বৈশ্বিক বাজারের সংকেত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির দিকে রয়েছে।
ভারতীয় শেয়ারবাজার ইতোমধ্যেই একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যে লেনদেন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে মার্কিন প্রশাসনের শুল্ক নীতি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।











