সঞ্চয় বাড়াতে অধিকাংশ ভারতীয়ই এখনও ফিক্সড ডিপোজিট বা FD-র উপর ভরসা রাখেন। নিরাপদ রিটার্নের আশায় বহু মানুষ ব্যাংকের FD-তে টাকা রাখেন। তবে অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, শুধু FD-র উপর নির্ভর না করে বিনিয়োগের ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করা জরুরি। বিশেষ করে মার্চ মাসে আর্থিক পরিকল্পনা করলে ভবিষ্যতে বড় সুবিধা মিলতে পারে।
FD এখনও জনপ্রিয়, কিন্তু সীমাবদ্ধতাও আছে
ভারতে FD দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। এখানে মূলধন নিরাপদ থাকে এবং নির্দিষ্ট সুদের হার অনুযায়ী আয় পাওয়া যায়। তবে সময়ের সঙ্গে সুদের হার পরিবর্তন, করের চাপ এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রকৃত রিটার্ন অনেক ক্ষেত্রেই কমে যায়।
কর ব্যবস্থার কারণে কমে যেতে পারে লাভ
FD থেকে যে সুদ পাওয়া যায় তা সম্পূর্ণভাবে আয়করযোগ্য। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীর আয়ের স্তর অনুযায়ী এর উপর কর দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই করের হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে সুদের বড় অংশ কর বাবদ কেটে যাওয়ায় প্রকৃত লাভ অনেকটাই কমে যায়।

মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবও বড় চ্যালেঞ্জ
শুধু করই নয়, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতিও FD-র রিটার্নকে প্রভাবিত করে। দাম বাড়ার ফলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। তাই শুধু FD-তে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে প্রকৃত সঞ্চয় ততটা বাড়ে না।
বিকল্প বিনিয়োগে পোর্টফোলিও শক্তিশালী করা জরুরি
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র FD-তে বিনিয়োগ না করে একটি বৈচিত্র্যময় ফিক্সড ইনকাম পোর্টফোলিও তৈরি করা উচিত। এতে ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে রিটার্নও বাড়তে পারে।
কোন কোন বিকল্প বিনিয়োগ ভাবা যেতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগের ঝুড়িতে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্য রাখা যেতে পারে। যেমন—
সরকারি বন্ড
ইক্যুইটি সেভিংস ফান্ড
এই ধরনের বিনিয়োগ একসঙ্গে রাখলে পোর্টফোলিও আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
সরকারি বন্ড তুলনামূলকভাবে নিরাপদ
সরকারি বন্ডকে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয় কারণ এটি সরকারের গ্যারান্টির আওতায় থাকে। তাই যাঁরা ঝুঁকি কম নিয়ে স্থিতিশীল আয় চান, তাঁদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে বাড়তে পারে রিটার্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বিনিয়োগের সময়সীমা দুই বছর বা তার বেশি হয়, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে এই বিকল্প বিনিয়োগগুলো FD-র তুলনায় বেশি কর-সাশ্রয়ী ও লাভজনক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত কর কাঠামোর সুবিধাও পাওয়া যায়।
বয়স ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী পরিকল্পনা জরুরি
কোন বিনিয়োগ আপনার জন্য উপযুক্ত হবে তা নির্ভর করে বয়স, আয়ের স্তর, করের হার এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার উপর। তরুণ বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ডেট ফান্ড বা হাইব্রিড ফান্ডে বেশি আগ্রহ দেখান, কারণ এতে দীর্ঘমেয়াদে রিটার্নের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই ফিক্সড ডিপোজিট বা FD-কে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। তবে করের চাপ ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে এখন অনেকেই বিকল্প বিনিয়োগের পথ খুঁজছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা করলে FD ছাড়াও আরও লাভজনক ও নিরাপদ বিনিয়োগ সম্ভব।













