ইসরাইলে রাজনৈতিক সংকট চরমে: সংসদ ভেঙে দেওয়ার আশঙ্কা

ইসরাইলে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। নেতানিয়াহুর সরকারের উপর সংকটের ছায়া, সংসদ ভেঙে দেওয়ার আশঙ্কায় দেশ। ধর্মীয় আইনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতি।

ইসরাইলে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের উপর সংকটের ছায়া ঘনিয়ে উঠেছে, এবং এখন সংসদ ভেঙে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।

যিরুশালেম: ইসরাইলের রাজনীতি আবারও গভীর সংকটের মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের উপর বিপদের মেঘ জমে উঠেছে, কারণ বিরোধী দল সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংকট কেবল বিরোধী দলের অসম্মতির ফল নয়, বরং সরকারের অভ্যন্তরেই ধর্মীয় দলগুলি এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে গভীর দ্বন্দ্ব এর মূল কারণ হয়ে উঠেছে।

বিরোধের মূল কী?

এই নতুন সংকটের মূলে রয়েছে একটি পুরোনো এবং সংবেদনশীল বিষয় - ধর্মীয় ইহুদি ছাত্রদের সামরিক সেবা থেকে ছাড় দেওয়ার আইন। ইসরাইলে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ছাত্রদের এ থেকে ছাড় দেওয়া হত। তবে, ২০২৩ সালে ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট এই ছাড়কে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে এবং সরকারকে নতুন আইন আনার নির্দেশ দেয়। তখন থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারই এই বিষয়ে স্পষ্ট আইন তৈরি করতে পারেনি।

এখন নেতানিয়াহুর সরকারে যুক্ত দুটি প্রধান অতি-রক্ষণশীল দল - ইউনাইটেড টোরা জুডাইজম এবং শাস - এই আইনটি পাস করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তারা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে যে যদি এই আইনটি পাস না হয়, তবে তারা বিরোধী দলের সাথে মিলে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেবে।

ইসরাইলে রাজনৈতিক সংকট চরমে: সংসদ ভেঙে দেওয়ার আশঙ্কা

সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব: সরকারের কাছে ধাক্কা

বুধবার বিরোধী নেতারা সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিল পেশ করেছেন, যার ফলে নেতানিয়াহু সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে, এই বিলটি এখনও আইন হওয়ার অনেক দূর। ইসরাইলের আইন অনুসারে সংসদ ভেঙে দেওয়ার কোনও প্রস্তাবকে চারবার ভোটিং প্রক্রিয়া দিয়ে যেতে হয়। এর অর্থ হল, যদি প্রস্তাবটি প্রাথমিক সমর্থনও পায়, তবুও সরকার অবিলম্বে পতিত হবে না। এর কাছে এখনও সময় আছে যে তারা সমাধান বের করতে পারে অথবা জোটটিকে আবার একত্রিত করতে পারে।

সরকারের কৌশল: সময় কেনার চেষ্টা

এই সংকট থেকে বাঁচার জন্য নেতানিয়াহু শিবির সময় কেনার কৌশল অবলম্বন করছে। সংসদের কার্যসূচীতে বুধবার কয়েক ডজন নতুন বিল যোগ করা হয়েছে, যাতে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং ভোটিং প্রক্রিয়া ধীর করা যায়। এছাড়াও, নেতানিয়াহুর লিকুড দল সেই কমিটির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখে, যা সিদ্ধান্ত নেয় যে কোনও প্রস্তাব কত দ্রুত এগিয়ে যাবে। এমনটা ধারণা করা হচ্ছে যে নেতানিয়াহু সময়ের সদ্ব্যবহার করে জোটের দলগুলিকে শান্ত করার এবং একটি নতুন সূত্র বের করার চেষ্টা করবেন।

জোটের দলগুলির সতর্কবার্তা: আমরা এখন সীমাচিহ্নিতে

ইসরাইলে রাজনৈতিক সংকট চরমে: সংসদ ভেঙে দেওয়ার আশঙ্কা

ইউনাইটেড টোরা জুডাইজম এবং শাস দল ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এখন পিছিয়ে যাওয়ার মেজাজে নেই। শাস দলের মুখপাত্র আশের মেদিনা ইসরাইলি রেডিওকে বলেছেন, আমাদের ডানপন্থী সরকারকে গिराতে কোনও আনন্দ নেই, কিন্তু আমরা এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে সহ্য করা কঠিন হয়ে উঠেছে। যদি সমাধান না পাওয়া যায়, তবে আমরা সংসদ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেব। এই বক্তব্য দেখায় যে জোটের অভ্যন্তরে অসন্তোষ গভীর হচ্ছে এবং নেতানিয়াহুর কাছে আপোষ করার খুব সীমিত সুযোগ রয়েছে।

এই সংকট এমন সময়ে এসেছে যখন ইসরাইল হামাসের সাথে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িত। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকার পতিত হয়, তবে ইসরাইলকে দ্রুত নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নামতে হতে পারে, যার ফলে নিরাপত্তা এবং প্রশাসন উভয়ের উপর প্রভাব পড়বে।

Leave a comment