বাড়ির বারান্দা কিংবা ছাদে টবে জবাগাছ লাগিয়েছেন? গাছ রয়েছে, নিয়মিত জলও দিচ্ছেন, কিন্তু ফুলের দেখা নেই! কখনও আবার কুঁড়ি ধরেও ঝরে পড়ছে, পাতাগুলি হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এমন হলে শুধু জল বা সার বাড়িয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং পরিচর্যার কিছু সাধারণ ভুলই গাছের ক্ষতির কারণ হতে পারে। জবাগাছ সুস্থ রাখতে তাই এই ভুলগুলি এড়িয়ে চলা জরুরি।
জবাগাছে ফুল না আসার পিছনে কোথায় ভুল?
জবা এমন একটি গাছ, যা উপযুক্ত পরিবেশ পেলে দ্রুত বেড়ে ঝোপালো হয়ে উঠতে পারে। পর্যাপ্ত আলো, সঠিক জল এবং জলনিকাশি ব্যবস্থা থাকলে নিয়মিত ফুলও ফুটতে পারে। কিন্তু টবের মাটিতে দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকলে পরিস্থিতি উল্টো হয়ে যায়।তাই শুধু গাছের উপরের অংশ দেখে নয়, টবের মাটির অবস্থাও নিয়মিত নজরে রাখতে হবে।
প্রথম ভুল: টবে জল বেরনোর ব্যবস্থা নেই
জবাগাছের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল ভালো ড্রেনেজ। টবের নিচে পর্যাপ্ত ছিদ্র না থাকলে জল বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে মাটিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমে থাকে এবং শিকড়ের চারপাশে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।এর সঙ্গে যদি বারবার জল দেওয়া হয়, তাহলে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই টবের নীচের ড্রেনেজ হোলগুলি নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
দ্বিতীয় ভুল: মাটি শুকোনোর আগেই বারবার জল
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে জল দেওয়াই যে গাছের জন্য ভালো, এমনটা নয়। আবহাওয়া, টবের আকার, মাটির ধরন এবং গাছের অবস্থার উপর জলের প্রয়োজন বদলাতে পারে।জল দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে মাটির উপরিভাগ পরীক্ষা করে নিন। মাটির উপরের প্রায় ১–২ ইঞ্চি অংশ শুকিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিতে পারেন। কিন্তু মাটি যদি এখনও ভিজে থাকে, তাহলে ফের জল দেওয়ার আগে অপেক্ষা করাই ভালো।
তৃতীয় ভুল: ভারী মাটি ও অতিরিক্ত রাসায়নিক সার
এঁটেল বা অতিরিক্ত আঠালো মাটিতে জল দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে পারে। জবাগাছের জন্য এমন মাটির বদলে জল সহজে বেরিয়ে যেতে পারে এমন দোআঁশ ধরনের মাটি বেশি উপযোগী।অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করাও গাছের ক্ষতি করতে পারে। গাছের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার বা খুব ঘন ঘন সার প্রয়োগ করলে শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে পরিমাণ বজায় রাখা জরুরি।
ভেজা মাটিতে শিকড় পচনের আশঙ্কা
দীর্ঘসময় মাটি ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে থাকলে বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে Phytophthora গোত্রের রোগজীবাণু শিকড় ও কাণ্ডের পচনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।গাছের গোড়া নরম হয়ে যাওয়া, পাতা অস্বাভাবিকভাবে হলুদ হওয়া, ঝিমিয়ে পড়া কিংবা হঠাৎ পাতা ঝরে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
জবাগাছ বাঁচাতে কী করবেন?
প্রথমেই টবের নিচের ছিদ্রগুলি মাটি বা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনে সেগুলি পরিষ্কার করুন। মাটিতে অতিরিক্ত জল জমে থাকলে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন।গাছের গোড়ায় ছত্রাকজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত অংশ এবং মাটির অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয় নার্সারির পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই লেবেলের নির্দেশনা ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলুন।
জবাগাছ খুব বেশি যত্ন না নিলেও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। কিন্তু জল দেওয়া, মাটির ধরন কিংবা সার প্রয়োগে সামান্য ভুল হলেই শিকড় পচা, পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া এবং কুঁড়ি ঝরে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে টবের ড্রেনেজ ঠিক না থাকা ও অতিরিক্ত জল জবাগাছের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।













