Peepal Plants Removal Tips: বর্ষায় দেওয়ালের ফাটলে অশ্বত্থ গাছ? না কেটেই সরানোর সহজ উপায়, ফের চারা গজানোও হবে কঠিন

বর্ষায় দেওয়াল বা ছাদের ফাটলে অশ্বত্থ চারা গজিয়েছে? গাছ না কেটে কীভাবে নিরাপদে সরাবেন এবং ফের চারা গজানোর সম্ভাবনা কমাতে ফাটল কীভাবে মেরামত করবেন, জানুন।

বৃষ্টির জল আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ পেলেই বাড়ির ছাদ, দেওয়াল কিংবা বারান্দার ফাটলে ছোট্ট অশ্বত্থ চারা মাথা তুলতে পারে। দেখতে ছোট হলেও সময়ের সঙ্গে এর শিকড় ছড়িয়ে ফাটল আরও বড় করতে পারে। ফলে বাড়ির কাঠামোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অনেকেই অশ্বত্থ গাছ কাটতে চান না। তাই সরাসরি কেটে ফেলার বদলে কীভাবে ধীরে ধীরে চারাটিকে সরানো যায় এবং ভবিষ্যতে একই জায়গায় গাছ গজানোর সম্ভাবনা কমানো যায়, তা জানা জরুরি।

দেওয়ালের ফাটলে অশ্বত্থ চারা কেন সমস্যা তৈরি করে?

ছাদ বা দেওয়ালের ফাটলে জমে থাকা মাটি ও আর্দ্রতার মধ্যে অশ্বত্থের বীজ থেকে চারা জন্মাতে পারে। বর্ষায় পর্যাপ্ত জল পাওয়ায় চারাটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরে শিকড় ফাটলের ভিতরে ঢুকে আরও জায়গা তৈরি করতে পারে।তাই ছোট চারা দেখলেই বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া ভালো। বিশেষ করে দেওয়ালের ফাটল যদি ইতিমধ্যেই বড় হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী মিস্ত্রি বা নির্মাণ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আগে চারার চারপাশ পরিষ্কার করে জল কমান

অশ্বত্থ চারাটি সরানোর আগে তার গোড়ার চারপাশের মাটি, শুকনো পাতা বা অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কার করে নিন। শিকড়ের জায়গায় যাতে নিয়মিত জল জমে না থাকে, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।চারাটি দুর্বল করার জন্য জল সরবরাহ কমানো যায়। তবে দেওয়াল বা ছাদের জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়—বরং জমে থাকা জল দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

নুন-ফিটকিরির মিশ্রণের কথা বলা হয়, তবে সতর্ক থাকুন

প্রচলিত ঘরোয়া টোটকায় এক কাপ জলে কয়েক চামচ নুন, ফিটকিরির গুঁড়ো এবং সামান্য চুন মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরির কথা বলা হয়। এরপর সেটি চারার শিকড়ের ফাটলে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।তবে এই ধরনের মিশ্রণ ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নুন, চুন বা অন্য কোনও পদার্থ দেওয়ালের উপকরণ, ধাতব অংশ কিংবা আশপাশের গাছপালার ক্ষতি করতে পারে। তাই সরাসরি বড় পরিমাণে ব্যবহার না করে নিরাপদ পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দিন।

হিং-ফিটকিরির পেস্ট বা ভিনিগারের টোটকাও প্রচলিত

আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে হিং ও ফিটকিরি দিয়ে পেস্ট তৈরি করে শিকড়ের অংশে লাগানোর কথা বলা হয়। আবার কাণ্ড কেটে তার অংশে সাদা ভিনিগার প্রয়োগের কথাও প্রচলিত রয়েছে।তবে দেওয়াল বা ছাদের ফাটলে কোনও রাসায়নিক বা ঘরোয়া মিশ্রণ ব্যবহার করার আগে তার প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া দরকার। বিশেষ করে বাড়িতে শিশু বা পোষ্য থাকলে এসব পদার্থ ব্যবহারে অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি।

গ্লাইফোসেট ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা

অশ্বত্থের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ সরাতে কেউ কেউ গ্লাইফোসেটজাত আগাছানাশক ব্যবহার করেন। কিন্তু এটি একটি রাসায়নিক আগাছানাশক। তাই নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার না করে পণ্যের লেবেল ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলা জরুরি।শিশু, পোষ্য, খাবার, পানীয় জলের উৎস এবং বাড়ির ব্যবহারের জায়গা থেকে রাসায়নিকটি দূরে রাখতে হবে। বিশেষ করে ছাদে জলের ট্যাঙ্ক বা খাবার সংরক্ষণের জায়গার কাছাকাছি থাকলে নিজে থেকে আগাছানাশক ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

শিকড় সরানোর পর সবচেয়ে জরুরি কাজ

অশ্বত্থের চারা ও শিকড় সরানোর পর ফাটলটি খোলা রেখে দেবেন না। জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে প্রয়োজন অনুযায়ী সাদা সিমেন্ট, উপযুক্ত মর্টার বা ওয়াটারপ্রুফিং উপকরণ দিয়ে ফাটল মেরামত করতে হবে।ফাটলের মধ্যে যাতে বৃষ্টির জল ঢুকে জমে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ আর্দ্রতা ও জমে থাকা মাটি থাকলে ভবিষ্যতে আবার কোনও গাছের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্ষাকালে ছাদ, বারান্দা কিংবা দেওয়ালের ছোট ফাটলে অশ্বত্থের চারা গজিয়ে ওঠা বেশ সাধারণ। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে শিকড় ধীরে ধীরে ফাটল বাড়িয়ে দিতে পারে। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অনেকে অশ্বত্থ গাছ কাটতে চান না। সেক্ষেত্রে গাছটি সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি ফাটল বন্ধ করে কীভাবে ফের চারা গজানোর সম্ভাবনা কমানো যায়, জেনে নিন সহজ কিছু উপায়।

Leave a comment