শীত এলে বাঙালির ঘরে গুড়ের ঘ্রাণই যেন উৎসবের আরেক নাম। অনেকেই প্রতিদিন দুধের সঙ্গে গুড় খান কিংবা খাবারের পর একটু গুড় মুখে দেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—প্রতিদিন গুড় খাওয়া সকলের জন্য উপকারী নয়। এতে ক্যালোরি ও শর্করার পরিমাণ বেশি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্যের ক্ষতিও করতে পারে। কারা গুড় এড়িয়ে চলবেন ও গুড় খাওয়ার কী কী ঝুঁকি—এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

প্রতিদিন গুড় খাওয়া কি সত্যিই ভাল? বিশেষজ্ঞ বলছেন ‘না’
অনেকে মনে করেন গুড়ে চিনি নেই, তাই এটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় না। কিন্তু এই ধারণা ভুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুড় শরীরে গিয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়, ফলে চিনির মতোই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়।১০০ গ্রাম গুড়ে প্রায় ৩৮৩ ক্যালোরি, যা নিয়মিত খেলে ওজন ও শর্করা দু’টোই বাড়তে পারে।
গুড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি! কেন সতর্ক থাকা জরুরি
গুড় তৈরির অনেক জায়গায় সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। কাঁচামালও অনেক সময় ঠিকভাবে ধোয়া হয় না। ফলে গুড়ে ব্যাকটেরিয়া, ময়লা বা সংক্রমণ সৃষ্টিকারী উপাদান থাকতে পারে। তাই গুড় কিনতে হলে পরিষ্কার ও বিশ্বস্ত প্রক্রিয়াজাতকরণের পণ্যই বেছে নেওয়া জরুরি।

হজমে সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের আশঙ্কা
যদিও অল্প পরিমাণে গুড় হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, কিন্তু বেশি খেলে উলটো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে—
অতিরিক্ত গুড় খেলে অম্বল, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি পেট ব্যথাও হতে পারে।
গুড় তুলনামূলক ভারী খাবার, তাই শিশু ও দুর্বল হজমশক্তির মানুষের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
সর্দি, বমি ভাব, মাথাব্যথা—অতিরিক্ত গুড়ের আরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
গুড় অতিরিক্ত খেলে দেখা দিতে পারে—
সর্দি ও কাশি
বমি ভাব
মাথাব্যথা
পেটের অস্বস্তি
ফ্রুক্টোজের কারণে আকস্মিক ওজন বৃদ্ধি
তাই প্রতিদিন বেশি পরিমাণে গুড় খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য ব্যাহত করতে পারে।

কারা গুড় এড়িয়ে চলবেন?
বিশেষজ্ঞরা জানান—
ডায়াবেটিস রোগীরা
ওজন বাড়ার প্রবণতা থাকা মানুষ
হজমের সমস্যা বা IBS আক্রান্ত ব্যক্তি
অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের রোগীরাও গুড়ের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারেন
এঁদের জন্য গুড় নিয়মিত খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

শীতে গুড় খাওয়া উপকারী হলেও তা সবার জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন—প্রতিদিন গুড় খাওয়া রক্তে শর্করা বাড়ানো থেকে শুরু করে হজমের সমস্যা, সংক্রমণ এবং ওজন বৃদ্ধির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তাই গুড় খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন পরিমিতি ও সতর্কতা।













