স্বাস্থ্য সচেতনতার যুগে অনেকেই চায়ে বা মিষ্টিতে চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করছেন। প্রচলিত ধারণা, গুড় নাকি শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী এবং এতে ব্লাড সুগারও তেমন বাড়ে না। কিন্তু এই ধারণা কতটা সত্যি? চিকিৎসকদের মতে, গুড়ের কিছু অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ থাকলেও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে গুড়ও পরিমিত পরিমাণেই খেতে হবে।
গুড় ও চিনির মধ্যে পার্থক্য কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিশোধিত চিনি (Refined Sugar) একটি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় সমস্ত ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চিনি মূলত কেবল ক্যালোরির উৎস।
অন্যদিকে, আখ বা খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় এতে কিছু পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বজায় থাকে। সেই কারণেই পুষ্টিগুণের বিচারে গুড় কিছুটা এগিয়ে।
ব্লাড সুগার বাড়ায় কোনটি?
চিকিৎসকদের মতে, চিনি দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অল্প সময়ের মধ্যেই বেড়ে যেতে পারে।
গুড় তুলনামূলক ধীরে হজম হলেও সেটিও শেষ পর্যন্ত শর্করাই। তাই গুড় খেলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। শুধু বাড়ার গতি কিছুটা আলাদা হতে পারে।
ডায়াবেটিসে গুড় কি নিরাপদ?
এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা তৈরি হয়।
অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিস থাকলে চিনি বাদ দিয়ে যত খুশি গুড় খাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে—
গুড়ও সীমিত পরিমাণে খেতে হবে।
অতিরিক্ত গুড় খেলেও রক্তে শর্করা বাড়তে পারে।
ক্যালোরি গ্রহণও বেড়ে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
গুড়ের পুষ্টিগুণ কী?
গুড়ে সাধারণত পাওয়া যায়—
আয়রন
ক্যালসিয়াম
পটাশিয়াম
কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
অল্প পরিমাণে খনিজ উপাদান
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুষ্টিগুণ এত বেশি নয় যে শুধুমাত্র গুড় খেয়ে শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
চিনি না গুড়—কোনটি বেছে নেবেন?
পুষ্টিগুণের বিচারে গুড় কিছুটা ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে এটি সীমাহীন পরিমাণে খাওয়া যাবে।
যদি মিষ্টি খেতেই হয়, তাহলে—
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।
প্রতিদিন অতিরিক্ত চিনি বা গুড় খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার উপর গুরুত্ব দিন।
গুড়কে অনেকেই চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে করেন। কারণ এতে কিছু খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গুড়ও শেষ পর্যন্ত এক ধরনের শর্করা। তাই ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিনি ও গুড়—দুটিই সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।













