রাতের গভীর নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকাই শুরু হয় তাণ্ডব। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ প্রবল কালবৈশাখীর দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে Jalpaiguri শহর ও আশপাশের একাধিক এলাকা। ঘুম ভাঙতেই বাসিন্দাদের চোখে পড়ে ভাঙাচোরা গাছ, উড়ে যাওয়া টিনের চাল আর বিদ্যুতের ছিন্ন তারে ভর্তি রাস্তা। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে।
![]()
ঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক বাড়ি
প্রশাসন সূত্রে খবর, ঝড়ের জেরে প্রায় আড়াইশোরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে টিনের চালওয়ালা বাড়িগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। বহু বাড়ির ছাউনি উড়ে গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে জানা গিয়েছে।মণ্ডলঘাট, কোরানিপাড়া-সহ একাধিক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। বহু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে।
থমকে গেল রেল পরিষেবা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
কালবৈশাখীর প্রভাব পড়েছে রেল চলাচলেও। হলদিবাড়ি-নিউ জলপাইগুড়ি শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। সকালে নির্ধারিত সময়ে ডিএমইউ প্যাসেঞ্জার ট্রেন না পৌঁছনোর কারণে সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রীরা।Jalpaiguri Town railway station-এ বহু যাত্রীকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ঝড়ের কারণে বেশ কয়েকটি ট্রেন দেরিতে চলায় যাত্রী দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
![]()
ক্ষতিগ্রস্ত পোলট্রি ফার্ম, মৃত বহু মুরগি
ঝড়ে শুধুমাত্র বাড়িঘর নয়, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন পোলট্রি ফার্মেও। একাধিক মুরগির খামারের কাঠামো ভেঙে পড়ায় বহু মুরগির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এর জেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বহু খামার মালিক।
![]()
পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে প্রশাসন
ঝড়ের পর থেকেই উদ্ধার ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজে নেমেছে প্রশাসন। সিভিল ডিফেন্স কর্মী, ব্লক প্রশাসন ও গ্রাম পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।এলাকা পরিদর্শনে যান বিধায়ক Ananta Deb Adhikari। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
![]()
বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রবল কালবৈশাখীর দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল Jalpaiguri ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রায় ২৫০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে গাছ, ছিঁড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের তার। ঝড়ের জেরে ব্যাহত হয়েছে রেল পরিষেবাও। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা।











