হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি হিসেবে এই দিনটি পালিত হয়। ভক্তদের অনেকেই এদিন উপবাস থেকে পুজো, নামসংকীর্তন ও কৃষ্ণের জন্মক্ষণ উদযাপন করেন। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে জন্মাষ্টমীর ব্রত পালন করলে পুণ্যলাভ হয়। তবে এই ব্রত পালনের রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু রীতি।
জন্মাষ্টমীর আগের দিন থেকেই সংযম
জ্যোতিষবিদদের মতে, জন্মাষ্টমীর ব্রত পালনের প্রস্তুতি আগের দিন থেকেই শুরু করা যেতে পারে। আগের দিন নিরামিষ খাবার খেয়ে সংযম পালন করার কথা বলা হয়েছে। রাত ১২টার মধ্যে খাবার খেয়ে নেওয়া এবং ঘুমোনোর আগে ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে নেওয়ার পরামর্শ রয়েছে।
জন্মাষ্টমীর দিন কী করবেন?
জন্মাষ্টমীর দিন সকাল থেকে উপবাস রাখার প্রচলন রয়েছে। এরপর মধ্যরাত্রি পর্যন্ত ভক্তি ও ধর্মীয় আচারে সময় কাটানো হয়।
এই সময়—
হরিনাম জপ করা যেতে পারে।
শ্রীকৃষ্ণের লীলা শ্রবণ করা হয়।
ভগবানের দর্শন ও পুজো করা হয়।
ভক্তদের সঙ্গে নামসংকীর্তনে অংশ নেওয়া যায়।
কৃষ্ণের অভিষেক দর্শন করা হয়।
মধ্যরাত্রিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মক্ষণ উপলক্ষে পুজো ও অভিষেক করা হয়।
অনেক ভক্ত একাদশীর অনুকল্পের মতো নির্দিষ্ট প্রসাদ গ্রহণ করে থাকেন। তবে কোন ধরনের খাবার গ্রহণ করা হবে, তা পারিবারিক ও সম্প্রদায়ভেদে আলাদা হতে পারে।
শরীর খারাপ হলে কি উপবাস করতেই হবে?
দীর্ঘক্ষণ উপবাস সবার পক্ষে উপযুক্ত নয়। অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ, শিশু বা যাঁদের নিয়মিত খাবার ও ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের জোর করে উপবাস করা উচিত নয়।উপবাসে শারীরিক সমস্যা হলে নিজের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রেও নিজের শারীরিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পরের দিন কখন করবেন পারণ?
জন্মাষ্টমীর পরের দিন সকালে স্নান করে শুদ্ধভাবে পুজো সম্পন্ন করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্রত ভঙ্গ বা পারণ করার রীতি রয়েছে। পারণের সময় অঞ্চল, পঞ্জিকা ও সম্প্রদায়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিজের এলাকার নির্ভরযোগ্য পঞ্জিকা অনুযায়ী পারণের সঠিক সময় দেখে নেওয়া উচিত।শ্রীকৃষ্ণের প্রসাদ গ্রহণ করেই পারণ করার প্রচলন রয়েছে।
পারণের সময় কোন মন্ত্র পাঠ করবেন?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পারণ শুরুর সময় পাঠ করা হয়—
পারণ আরম্ভের মন্ত্র:
“সর্বায় সর্বেশ্বরায় সর্বপতয়ে সর্বসম্ভবায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।”
পারণ শেষ করার সময় পাঠ করা হয়—
পারণান্তে মন্ত্র:
“ভূতায় ভূতেশ্বরায় ভূতপতয়ে ভূতসম্ভবায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।”
ভক্তিভরে এই মন্ত্র পাঠ করে শ্রীকৃষ্ণের প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে জন্মাষ্টমীর ব্রত সম্পূর্ণ করার রীতি রয়েছে।
জন্মাষ্টমীর ব্রত নিয়ে কী বিশ্বাস রয়েছে?
হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রে জন্মাষ্টমীর উপবাস ও ভক্তিপূর্ণ আচরণকে বিশেষ পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠার সঙ্গে এই ব্রত পালন করলে ভক্তের জীবনে শুভফল আসে এবং শ্রীকৃষ্ণের কৃপা লাভ হয়। তবে এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের অংশ—বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোনও নিশ্চয়তা হিসেবে এগুলিকে দেখা উচিত নয়।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বহু ভক্ত উপবাস ও ব্রত পালন করেন। শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এই ব্রতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উপবাস, হরিনাম জপ, কৃষ্ণলীলা শ্রবণ, নিশিযাপন এবং পরদিন নির্দিষ্ট নিয়মে পারণের বিধান। কীভাবে পালন করবেন জন্মাষ্টমীর ব্রত এবং কোন মন্ত্র পাঠ করে করবেন পারণ, জেনে নিন।













