Janmashtami Mohanbhog Recipe: জন্মাষ্টমীতে গোপালের ভোগে বানান নরম-গরম মোহনভোগ! সুজি ভাজার এই কৌশল জানলে দলা পাকাবে না

জন্মাষ্টমীর ভোগে সুজির মোহনভোগ বানাবেন? সুজি কোন আঁচে ভাজবেন, দুধ কীভাবে দেবেন এবং কীভাবে দলা পাকানো বা শক্ত হয়ে যাওয়া আটকাবেন, জেনে নিন সহজ রেসিপি।

জন্মাষ্টমী মানেই ঘরে ঘরে শ্রীকৃষ্ণের পুজো, ভোগের আয়োজন আর নানা রকম মিষ্টি পদ। দোকান থেকে মিষ্টি কিনে আনা যায় ঠিকই, কিন্তু নিজের হাতে তৈরি ভোগের স্বাদই আলাদা। সেই তালিকায় সহজেই জায়গা করে নিতে পারে সুজির মোহনভোগ। তবে অনেকের বাড়িতে মোহনভোগ তৈরি করতে গিয়ে সুজি দলা পাকিয়ে যায় কিংবা রান্নার পর শক্ত হয়ে যায়। আসলে কয়েকটি ছোট কৌশল মেনে চললেই এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

Janmashtami Mohanbhog Recipe: জন্মাষ্টমীতে গোপালের ভোগে বানান নরম-গরম মোহনভোগ! সুজি ভাজার এই কৌশল জানলে দলা পাকাবে না
মোহনভোগ কেন জন্মাষ্টমীর ভোগে এত জনপ্রিয়?

সুজির হালুয়া বা মোহনভোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পুজোর ভোগে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শ্রীকৃষ্ণের ভোগের তালিকাতেও এই মিষ্টি পদ রাখা হয় অনেক বাড়িতে।

ঘরোয়া উপকরণে দ্রুত তৈরি করা যায় বলেই উৎসবের দিনে মোহনভোগ বানানো বেশ সুবিধাজনক। লুচি বা পুরির সঙ্গে এই মিষ্টি ভোগ পরিবেশন করলেও বেশ ভালো লাগে।

সুজি ভাজবেন একেবারে কম আঁচে

মোহনভোগ তৈরির সময় প্রথমেই কড়াইয়ে সামান্য ঘি গরম করে কাজুবাদাম ভেজে তুলে রাখতে পারেন। এরপর তেজপাতা ও এলাচ দিয়ে সুজি দিয়ে দিন।

এবার শুরু হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সুজি মাঝারি বা বেশি আঁচে নয়, কম আঁচে ধীরে ধীরে ভাজতে হবে।

প্রায় ৪-৫ মিনিট ধৈর্য ধরে নাড়তে থাকুন। সুজি থেকে হালকা সুগন্ধ বেরিয়ে এলে এবং সামান্য বাদামি আভা দেখা দিলে বুঝবেন ভাজা ঠিক হয়েছে। খুব বেশি ভেজে গাঢ় বাদামি করে ফেলবেন না। এতে মোহনভোগের স্বাদ ও রং দুটোই বদলে যেতে পারে।

Janmashtami Mohanbhog Recipe: জন্মাষ্টমীতে গোপালের ভোগে বানান নরম-গরম মোহনভোগ! সুজি ভাজার এই কৌশল জানলে দলা পাকাবে না
দুধ একবারে ঢালবেন না

মোহনভোগের সুজি ভাজা হয়ে গেলে আগে থেকে গরম করে রাখা দুধ ধীরে ধীরে কড়াইয়ে দিতে হবে।

এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—দুধ ঢালার সঙ্গে সঙ্গে খুন্তি দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন।

একবারে বেশি দুধ ঢেলে দিলে বা নাড়াচাড়া বন্ধ করে দিলে সুজি দ্রুত দলা পাকাতে পারে। তাই অল্প অল্প করে দুধ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

চিনি ও কিশমিশ কখন দেবেন?

দুধ দেওয়ার পর সুজি কিছুটা ফুটে নরম হয়ে এলে চিনি যোগ করুন। স্বাদ অনুযায়ী চিনির পরিমাণ কম-বেশি করা যায়।

এর সঙ্গে এক চিমটে নুন দিলে মিষ্টির স্বাদ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে। ঘিয়ে ভাজা কিশমিশও এই সময় মিশিয়ে দিন।

সব উপকরণ দেওয়ার পর আবার কয়েক মিনিট কম আঁচে নাড়তে থাকুন।

মোহনভোগ শক্ত হয়ে যাওয়া আটকাবেন কীভাবে?

সুজি রান্নার সময় দ্রুত জল বা দুধ শুষে নেয়। ফলে গ্যাস থেকে নামানোর পরও মোহনভোগ কিছুটা ঘন হতে থাকে।

তাই কড়াইয়ে থাকা অবস্থায় একেবারে অতিরিক্ত শুকিয়ে ফেলবেন না। যখন মোহনভোগ ঘন ও থকথকে হবে, কিন্তু এখনও সামান্য নরম থাকবে, তখনই গ্যাস বন্ধ করে দিন।

এই কৌশল মানলে ঠান্ডা হওয়ার পরেও মোহনভোগ অতিরিক্ত শক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

Janmashtami Mohanbhog Recipe: জন্মাষ্টমীতে গোপালের ভোগে বানান নরম-গরম মোহনভোগ! সুজি ভাজার এই কৌশল জানলে দলা পাকাবে না
শেষে দিন কাজু, পেস্তা ও ড্রাই ফ্রুটস

মোহনভোগ গ্যাস থেকে নামিয়ে উপরে ভাজা কাজুবাদাম, পেস্তা ও কিশমিশ ছড়িয়ে দিতে পারেন। চাইলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সামান্য অন্য ড্রাই ফ্রুটসও ব্যবহার করা যায়।ঘি ব্যবহার করলে এই পদের স্বাদ ও সুবাস আরও সুন্দর হয়। তবে পরিমাণ খুব বেশি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এক নজরে মোহনভোগ তৈরির উপকরণ

সুজি — ১০০ গ্রাম

দুধ — প্রয়োজন অনুযায়ী

ঘি — পরিমাণমতো

চিনি — প্রায় ৪০ গ্রাম বা স্বাদ অনুযায়ী

কাজুবাদাম — প্রায় ২০ গ্রাম

কিশমিশ — প্রায় ২০ গ্রাম

তেজপাতা — ১টি

ছোট এলাচ — ২টি

নুন — এক চিমটে

সাজানোর জন্য পেস্তা ও অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটস

মোহনভোগ তৈরির মূল ধাপ

কড়াইয়ে ঘি গরম করে কাজুবাদাম ভেজে তুলে রাখুন।

তেজপাতা ও এলাচ দিয়ে সুজি যোগ করুন।

কম আঁচে কয়েক মিনিট সুজি নাড়তে নাড়তে ভাজুন।

হালকা বাদামি আভা ও সুন্দর গন্ধ বের হলে গরম দুধ ধীরে ধীরে দিন।

দুধ দেওয়ার সময় একটানা নাড়ুন, যাতে দলা না পাকায়।

কিছুক্ষণ ফুটে এলে চিনি, এক চিমটে নুন ও কিশমিশ মেশান।

কম আঁচে আরও কিছুক্ষণ রান্না করে থকথকে হলে নামিয়ে নিন।

উপর থেকে কাজুবাদাম, পেস্তা ও ড্রাই ফ্রুটস ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

Janmashtami Mohanbhog Recipe: জন্মাষ্টমীতে গোপালের ভোগে বানান নরম-গরম মোহনভোগ! সুজি ভাজার এই কৌশল জানলে দলা পাকাবে না
জন্মাষ্টমীর ভোগে সুজির মোহনভোগ বাঙালি ঘরে বেশ পরিচিত একটি পদ। অল্প কয়েকটি উপকরণেই তৈরি করা যায় এই মিষ্টি ভোগ। তবে মোহনভোগের আসল স্বাদ পেতে সুজি কীভাবে ভাজছেন এবং দুধ দেওয়ার সময় কী কৌশল মানছেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক আঁচে সুজি ভাজা এবং ক্রমাগত নাড়ার কৌশল মেনে চললে মোহনভোগ হবে মসৃণ, নরম ও সুস্বাদু।

Leave a comment