মুজফ্ফরপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মাড়িপুর রেল ওভারব্রিজে (আরওবি) ফের ভারী যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। সেতুর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিহার রাজ্য সেতু নির্মাণ নিগম ইমলিচট্টি ও মাড়িপুর—দুই দিকেই চতুর্থবারের মতো হাইট গেজ ব্যারিয়ার বসিয়েছে। এর ফলে বড় ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের মাড়িপুর আরওবি হয়ে শহরে প্রবেশ বন্ধ হয়েছে।
মাড়িপুর দিক থেকে শহরে আসা ভারী যানবাহনকে এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে। সরকারি বাস চলাচলের রুটেও পরিবর্তন করা হয়েছে। আপাতত বাসগুলি মহেশ বাবু চৌক, মেহদি হাসান চৌক এবং ব্রহ্মপুরা হয়ে চলাচল করছে।
মাড়িপুর আরওবি নিয়ে এই পরিস্থিতি নতুন নয়। সেতুটির অবস্থা নিয়ে আগে থেকেই প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। আইআইটি পাটনার একটি দল তাদের পরীক্ষায় সেতুটিকে ভারী যানবাহনের জন্য অনিরাপদ বলে জানিয়েছিল। এরপর প্রশাসন ও সেতু নির্মাণ নিগম ভারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে বসানো ব্যারিয়ারগুলি ট্রাকের ধাক্কায় বারবার ভেঙে যাওয়ায় ফের ব্যারিয়ার বসানোর প্রয়োজন হয়েছে। জুন মাসে প্রথমবার দুই দিকেই হাইট গেজ ব্যারিয়ার বসানো হয়েছিল। কিন্তু ইমলিচট্টির দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যারিয়ারটি ভেঙে দেয়। বিভাগ সেটি মেরামত করার পর প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একই দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাক ব্যারিয়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এরপর ১৩ জুলাই রাতে মাড়িপুর দিক থেকে আসা একটি ট্রাক ব্যারিয়ারের পাশাপাশি তার পিলারও ভেঙে দেয়। পরপর তিনটি ঘটনার পর সেতু নির্মাণ নিগম দুই দিকের ব্যারিয়ার সরিয়ে নিয়েছিল। ব্যারিয়ার সরানোর পর বেসরকারি বাসের পাশাপাশি রাতে পণ্যবোঝাই বড় ট্রাকও আরওবি দিয়ে চলাচল শুরু করে। ফলে সেতুর ওপর ভারী যানবাহনের চাপ ফের বেড়ে যায়।
এখন চতুর্থবার ব্যারিয়ার বসানোর পর বিভাগ আবার ভারী যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ করেছে। পুরনো ও জরাজীর্ণ সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোই এর উদ্দেশ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুর নিরাপত্তার কারণে ভারী যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ আগেই জারি করা হয়েছে। মাড়িপুর আরওবি ছাড়াও মুজফ্ফরপুরের আরও তিনটি সেতুতে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
মাড়িপুর আরওবি শহরের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ এই পথ দিয়ে শহরের বিভিন্ন অংশে যাতায়াত করেন। ভারী যানবাহনের জন্য পথ বন্ধ হওয়ায় বিকল্প রাস্তায় যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনকে এখন পরিবর্তিত রুট ব্যবহার করতে হবে।
শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় আগে থেকেই যানবাহনের চাপ রয়েছে। আগস্টে মুজফ্ফরপুরে বড় ও বাণিজ্যিক যানবাহনের জন্য নো-এন্ট্রির সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত করার তথ্যও সামনে এসেছিল। এই পরিস্থিতিতে মাড়িপুর আরওবিতে ভারী যানবাহন বন্ধ থাকায় শহরের অন্যান্য রাস্তায় চাপ আরও বাড়তে পারে।
মাড়িপুর আরওবির সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু পুরনো সেতুতে ব্যারিয়ার বসানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন আরওবি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও কাজ চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরনো সেতুর খারাপ অবস্থা এবং নির্মাণসংক্রান্ত বাধার কারণে নতুন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত হয়েছে। রেলের জমিতে দখল, বিদ্যুতের খুঁটি এবং জলের পাইপলাইনের মতো সমস্যার কারণে নির্মাণকাজে দেরি হয়েছে।
ভারী যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর ট্রাফিককে সুশৃঙ্খলভাবে বিকল্প পথে পরিচালনা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিকল্প রাস্তায় পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না হলে শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বাসযাত্রী, স্কুলের যানবাহন এবং ছোট যানবাহনের চালকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
মাড়িপুর আরওবিতে বারবার ব্যারিয়ার ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় নিষিদ্ধ সেতুতে ভারী যানবাহন কীভাবে পৌঁছে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এর আগেও ব্যারিয়ার বসানো সত্ত্বেও ট্রাকের ধাক্কায় সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। চতুর্থবার ব্যারিয়ার বসানোর পর ভারী যানবাহন যাতে ফের সেতুতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য সম্ভাব্য দুর্ঘটনা রোধ করা। প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় ভারী যানবাহনের জন্য সেতুটিকে অনিরাপদ বলা হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞাকে নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যানবাহন চালকদেরও ব্যারিয়ার সরানোর বা নিষিদ্ধ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে নির্ধারিত বিকল্প পথ ব্যবহার করার আবেদন জানানো হয়েছে।
এই মুহূর্তে মাড়িপুর আরওবিতে চতুর্থবার হাইট গেজ ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে এবং ভারী যানবাহনের পথ বন্ধ রয়েছে। সরকারি বাসসহ বড় যানবাহনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী দিনে সেতুটির মেরামত এবং নতুন আরওবি নির্মাণের অগ্রগতির দিকেও নজর থাকবে।










