শালপাতায় কচুরির সঙ্গে দোকানের মতো আলুর তরকারি! ফোড়নে এই মশলা, স্বাদে আসবে উত্তর কলকাতার পুরনো দিনের গন্ধ

ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুধ জ্বাল নয়! কড়াইয়ে ঘি মাখিয়ে গুঁড়ো দুধ, ব্রেড ক্রাম্ব ও ক্যারামেল দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে ঘন রাবড়ি বানানোর সহজ কৌশল জানুন।

সকালের গরম কচুরি, শালপাতার ঠোঙা আর তার সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা খোসা-সহ আলুর তরকারি—এই জুটি আজও বাঙালির রসনাতৃপ্তির অন্যতম পরিচিত ছবি। কিন্তু বাড়িতে সেই স্বাদ হুবহু পাওয়া যায় না অনেক সময়। কখনও ঝোল বেশি ঘন হয়ে যায়, কখনও মশলার গন্ধ ঠিক আসে না। আসলে এই রান্নার আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে আলুর ধরন, ফোড়ন এবং কয়েকটি বিশেষ মশলার ব্যবহারে।

শালপাতায় কচুরির সঙ্গে দোকানের মতো আলুর তরকারি! ফোড়নে এই মশলা, স্বাদে আসবে উত্তর কলকাতার পুরনো দিনের গন্ধ

খোসা-সহ আলুই এই তরকারির প্রাণ

কচুরির সঙ্গে পরিবেশন করার জন্য আলুর তরকারি বানাতে গেলে আলুর খোসা না ছাড়ানোই ভালো। তবে আলুগুলি অবশ্যই ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। খোসা-সহ রান্না করলে আলুর নিজস্ব গন্ধ ও স্বাদ ঝোলে সুন্দরভাবে মিশে যায়।এই ধরনের তরকারির জন্য ঝোলঝোলে, মশলাদার স্বাদের সঙ্গে মানানসই আলু ব্যবহার করাই ভালো। আলু খুব বেশি মিহি বা ভেঙে গেলে রান্নার চেহারা বদলে যেতে পারে।

ফোড়নে কী কী দেবেন?

এই তরকারির স্বাদ অনেকটাই নির্ভর করে ফোড়নের উপর। কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে প্রথমে আঁচ কিছুটা কমিয়ে নিন। এরপর দিতে পারেন—

হিং

পাঁচফোড়ন

শুকনো লঙ্কা

ফোড়নের সময় মেথি যেন পুড়ে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। মেথি পুড়ে গেলে গোটা তরকারিতে তেতো স্বাদ চলে আসতে পারে।এরপর হামানদিস্তায় বা শিলপাটায় থেঁতো করে রাখা আদা ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে অল্পক্ষণ ভেজে নিন। এতে তরকারিতে দারুণ ঘ্রাণ তৈরি হবে।

গুঁড়ো মশলার মিশ্রণেই আসল স্বাদ

এই আলুর তরকারির জন্য আলাদা করে একটি শুকনো মশলার মিশ্রণ তৈরি করে রাখতে পারেন। এর মধ্যে থাকবে—

আমচুর

জিরে গুঁড়ো

লঙ্কা গুঁড়ো

ধনে গুঁড়ো

শালপাতায় কচুরির সঙ্গে দোকানের মতো আলুর তরকারি! ফোড়নে এই মশলা, স্বাদে আসবে উত্তর কলকাতার পুরনো দিনের গন্ধ

সামান্য গরম মশলা

প্রায় আধ কেজি আলুর জন্য ৪-৫ গ্রাম, অর্থাৎ মোটামুটি এক চা-চামচ ভরা এই মশলার মিশ্রণ যথেষ্ট। খুব বেশি মশলা দিলে আলুর স্বাভাবিক স্বাদ ঢাকা পড়ে যেতে পারে।

বিটনুন ও কসৌরি মেথির ব্যবহার ভুলবেন না

দোকানের আলুর তরকারির স্বাদে যে আলাদা একটা টান থাকে, তার পেছনে থাকতে পারে বিটনুন ও কসৌরি মেথির মতো উপাদানের ব্যবহার। রান্নার সময় অল্প পরিমাণে দুটিই যোগ করলে ঝোলে আলাদা সুগন্ধ ও স্বাদের স্তর তৈরি হয়।পাশাপাশি সামান্য চিনি দিলে আমচুর ও বিটনুনের টক-নোনতা স্বাদের ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে তরকারির রংও কিছুটা সুন্দর হয়।

কীভাবে রান্না করবেন?

ফোড়ন ও আদা-কাঁচালঙ্কা ভাজার পর কম আঁচে গুঁড়ো মশলা দিয়ে খুব অল্প সময় নেড়ে নিন। মশলা পুড়িয়ে ফেললে স্বাদ নষ্ট হবে। প্রায় ৩০ সেকেন্ড মশলা কষিয়ে পরিষ্কার করে রাখা খোসা-সহ আলু দিয়ে দিন।এরপর প্রয়োজনমতো নুন দিয়ে আলুর সঙ্গে মশলা ভালোভাবে মিশিয়ে প্রায় ৫ মিনিট নেড়ে ভেজে নিন। এবার গরম জল দিয়ে কড়াই ঢেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন।আলু ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে গেলে ঝোলের ঘনত্ব পরীক্ষা করুন। আলুর স্টার্চ থেকেই ঝোল কিছুটা ঘন হয়ে আসবে। চাইলে একটি-দুটি সেদ্ধ আলু হাতার পিছন দিয়ে সামান্য চটকে দিতে পারেন। এতে ঝোল আরও সুন্দরভাবে ঘন হবে।

শালপাতায় কচুরির সঙ্গে দোকানের মতো আলুর তরকারি! ফোড়নে এই মশলা, স্বাদে আসবে উত্তর কলকাতার পুরনো দিনের গন্ধ

গরম কচুরির সঙ্গে পরিবেশন করুন

তরকারি তৈরি হয়ে গেলে গরম গরম কচুরির সঙ্গে পরিবেশন করুন। চাইলে শালপাতায় কচুরি সাজিয়ে তার পাশে ধোঁয়া ওঠা আলুর তরকারি দিলেই তৈরি হয়ে যাবে পুরনো কলকাতার দোকানের মতো পরিবেশ।এই তরকারির বিশেষত্ব হল—এতে অতিরিক্ত জটিল উপকরণের প্রয়োজন নেই। সঠিক আলু, পাঁচফোড়নের ফোড়ন, আদা-কাঁচালঙ্কা এবং আমচুর, বিটনুন ও কসৌরি মেথির মতো কয়েকটি উপাদানের সঠিক ব্যবহারই স্বাদ অনেকটাই বদলে দিতে পারে।

শালপাতায় কচুরির সঙ্গে দোকানের মতো আলুর তরকারি! ফোড়নে এই মশলা, স্বাদে আসবে উত্তর কলকাতার পুরনো দিনের গন্ধ

কচুরি মানেই সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা আলুর তরকারি। বিশেষ করে খোসা-সহ আলুর পাতলা ঝোলের স্বাদ বাঙালির কাছে আলাদা আবেগের। বাড়িতেই যদি দোকানের মতো সেই স্বাদ আনতে চান, তাহলে আলু থেকে ফোড়ন—সবকিছুর কয়েকটি ছোট কৌশল মেনে চলতে হবে।

Leave a comment