ট্রেন মানেই যাত্রী আসন, জানালা আর আরামদায়ক যাত্রা। কিন্তু জাপান তৈরি করেছে এমন এক বুলেট ট্রেন, যেখানে নেই কোনও সিট, নেই জানালাও! তবু সেটিই হতে চলেছে ভবিষ্যতের দ্রুততম পরিবহণের প্রতীক। কেন এমন অদ্ভুত নকশা? জানুন বিস্তারিত।
ম্যাগলেভ প্রযুক্তির বিস্ময়
এই বিশেষ ট্রেনটি ম্যাগলেভ প্রযুক্তিতে চলে। চৌম্বকীয় উত্তোলনের মাধ্যমে ট্রেনটি ট্র্যাকের প্রায় ১০ সেন্টিমিটার উপরে ভেসে চলে। ফলে ঘর্ষণ প্রায় শূন্যে নেমে আসে এবং ট্রেন অনায়াসে ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে পারে।চুবু অঞ্চলে সেন্ট্রাল জাপান রেলওয়ে কোম্পানি এই ট্রেনটির পরীক্ষা চালাচ্ছে।
কেন নেই জানালা বা সিট?
এই ট্রেনটি যাত্রী পরিবহণের জন্য নয়, বরং সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক।
ভেতরে বসানো হয়েছে মনিটর, সেন্সর ও প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি
প্রকৌশলীরা গতি, কম্পন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করছেন
জানালা না থাকায় ওজন কমে এবং বাতাসের প্রতিরোধ হ্রাস পায়
আসন না থাকায় পরীক্ষার জন্য বাড়তি জায়গা পাওয়া যায়
সংস্থার দাবি, যাত্রী সংস্করণে অবশ্যই জানালা ও আরামদায়ক আসন থাকবে।
টোকিও-নাগোয়া মাত্র ৪০ মিনিট!
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে টোকিও থেকে নাগোয়া পর্যন্ত ২৮৬ কিলোমিটার পথ ম্যাগলেভ ট্রেনে মাত্র ৪০ মিনিটে অতিক্রম করা যাবে।
বর্তমানে এই পথ শিনকানসেনে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। অর্থাৎ নতুন প্রযুক্তি সময় অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দেবে।
ব্যয়বহুল কিন্তু ভবিষ্যতমুখী প্রকল্প
পুরো প্রকল্পে প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন ব্যয় ধরা হয়েছে। জাপান সরকার ও রেল সংস্থা যৌথভাবে অর্থায়ন করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে জাপান ম্যাগলেভ ট্রেনে ঘণ্টায় ৬০৩ কিলোমিটার গতি তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।
ভবিষ্যতে এই রুট ওসাকা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্বে নেতৃত্বে জাপান
যুক্তরাষ্ট্র ও চিনও ম্যাগলেভ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তবে বাস্তব পরীক্ষায় ও উন্নত অবকাঠামো নির্মাণে জাপান বর্তমানে এগিয়ে।
এই ট্রেন বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় পরিবেশবান্ধব বলেও দাবি করা হচ্ছে।
জাপান পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে সিটবিহীন ও জানালাবিহীন এক ম্যাগলেভ বুলেট ট্রেন, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার। গতি, শক্তি সাশ্রয় ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্যই এই বিশেষ ডিজাইন। ভবিষ্যতে টোকিও-নাগোয়া রুটে যাত্রী পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।











