বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ শীতলা পুজো। আর সেই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই বৈশাখ মাসে উৎসবের রঙে রাঙল জয়নগর মজিলপুর। হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতি, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং দেবীর চরণে ৫০০০ ডাবের জল নিবেদন—সব মিলিয়ে নজরকাড়া আয়োজন দেখা গেল এলাকাজুড়ে। সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নামে শীতলা মন্দির চত্বরে।
৫০০০ ডাবের জলে মায়ের আরাধনা
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, মনের ইচ্ছা পূরণে দেবীর কাছে ডাবের জল নিবেদন অত্যন্ত শুভ। সেই বিশ্বাস থেকেই এ বছরও প্রায় ৫০০০ ডাবের জল দিয়ে মায়ের পুজোর সূচনা করা হয়।ভক্তরা মাথায় ডাব নিয়ে মন্দিরে পৌঁছন এবং বিশেষ রীতিনীতি মেনে দেবীর চরণে সেই জল নিবেদন করেন। পুজো ঘিরে সকাল থেকেই তৈরি হয় ভক্তিময় পরিবেশ।
শোভাযাত্রা ও আতশবাজিতে জমল উৎসব
শুধু পুজো নয়, গোটা অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল বিশাল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ।ঢাকের বাদ্যি, ফুলের সাজ এবং ধর্মীয় সঙ্গীতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা জয়নগর মজিলপুর এলাকা। দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ এই পুজো দেখতে আসেন।
এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু প্রস্তুতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীতলা মায়ের আগমনের প্রস্তুতি শুরু হয় প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই। বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।এরপর নির্দিষ্ট দিনে ভক্তিভরে মাকে নিয়ে আসা হয় মন্দিরে। গ্রামের বাসিন্দারা নিজেরাই পুজোর যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্ব সামলান।
পুজো ঘিরে বিশাল মেলা
শীতলা পুজো উপলক্ষে এলাকায় বসেছে বিশাল মেলা। খেলনা, মিষ্টি, খাবারের দোকান থেকে শুরু করে নানা ধরনের সামগ্রীর পসরা নিয়ে জমে ওঠে মেলার মাঠ।দু’দিন ধরে চলা এই উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা নামতেই আলো ও মানুষের ভিড়ে কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় এলাকা।
মানত পূরণে দণ্ডি কাটা ও ধুনো পোড়ানো
অনেক ভক্তই মনস্কামনা পূরণের আশায় দণ্ডি কাটা, ধুনো পোড়ানো-সহ বিভিন্ন ব্রত পালন করেন। শীতলা পুজোর দিন বহু বাড়িতেই উনুন জ্বালানো হয় না বলেও জানা গিয়েছে।স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই নিয়ম মেনে চললে দেবীর আশীর্বাদে পরিবারে শান্তি ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।
বছরভর অপেক্ষা এই উৎসবের জন্য
গ্রামের মানুষদের কাছে এই শীতলা পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, আবেগ ও ঐতিহ্যেরও বড় অংশ। তাই সারা বছর ধরেই এই পুজোর অপেক্ষায় থাকেন এলাকার বাসিন্দারা।পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষের অংশগ্রহণে এবারের শীতলা পুজোও হয়ে উঠল স্মরণীয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর মজিলপুরে বৈশাখ মাসের শীতলা পুজো ঘিরে তৈরি হল উৎসবের আবহ। প্রায় ৫০০০ ডাবের জল নিবেদন করে শুরু হয় দেবী আরাধনা। শোভাযাত্রা, আতশবাজি, বিশাল মেলা ও হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে জমে ওঠে গোটা এলাকা।











