সাতসকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অবজারভার’ রামলাল! সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখল জঙ্গলমহলের প্রিয় দাঁতাল

ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সকালবেলায় হাজির জঙ্গলমহলের পরিচিত দাঁতাল হাতি ‘রামলাল’। শান্তভাবে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার বিরল দৃশ্য ঘিরে চাঞ্চল্য ও কৌতূহল স্থানীয়দের মধ্যে।

ভোটের আবহে যখন সর্বত্র ‘অবজারভার’-দের আনাগোনা, ঠিক তখনই ঝাড়গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজির এক অন্য পর্যবেক্ষক! জঙ্গলমহলের বহুচর্চিত দাঁতাল হাতি ‘রামলাল’ বৃহস্পতিবার ভোরে ঢুকে পড়ে সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। কিছুক্ষণ শান্তভাবে ঘোরাঘুরির পর আবার জঙ্গলের দিকেই ফিরে যায় সে। আর সেই বিরল দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমে যায় স্থানীয়দের।

সাতসকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অবজারভার’ রামলাল! সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখল জঙ্গলমহলের প্রিয় দাঁতাল
‘বিশেষ পরিদর্শক’ ঘিরে ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য

ঝাড়গ্রামের জিতুশোল এলাকায় অবস্থিত সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত পরিবেশ বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই সরগরম হয়ে ওঠে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেখা যায় জঙ্গলমহলের পরিচিত দাঁতাল হাতি ‘রামলাল’-কে। বিশালাকৃতির এই বুনো হাতিকে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াতে দেখে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রামলাল অত্যন্ত শান্ত মেজাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে। কোথাও কোনও ভাঙচুর বা আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি সে।

ভোটের ‘অবজারভার’ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পরিদর্শক’!

স্থানীয়দের একাংশ মজার ছলে বলছেন, ভোটের মরশুমে বিভিন্ন জায়গায় যেমন পর্যবেক্ষকদের আনাগোনা চলছে, তেমনই জঙ্গলমহলের এই ‘অবজারভার’ও নাকি এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এসেছে!বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল-সাদা ভবন, খোলা প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের এলাকা বেশ কিছুক্ষণ ধরে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায় রামলালকে। এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বহু মানুষ।

সাতসকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অবজারভার’ রামলাল! সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখল জঙ্গলমহলের প্রিয় দাঁতাল
আতঙ্ক নয়, কৌতূহলই বেশি

দাঁতাল হাতির উপস্থিতিতে প্রথমে কিছুটা আতঙ্ক ছড়ালেও দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কারণ, জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের কাছে রামলাল নতুন নয়। বহুদিন ধরেই এই হাতিকে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।স্থানীয়দের মতে, অন্যান্য বুনো হাতির তুলনায় রামলাল অনেকটাই শান্ত স্বভাবের। মানুষের ক্ষতি করার প্রবণতা তার মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। বৃহস্পতিবারও কোনও ক্ষয়ক্ষতি না করেই সে ক্যাম্পাস ঘুরে আবার জঙ্গলের দিকে চলে যায়।

সাতসকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অবজারভার’ রামলাল! সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখল জঙ্গলমহলের প্রিয় দাঁতাল
মানুষ ও বন্যপ্রাণের সহাবস্থানের বিরল ছবি

এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সামনে এল জঙ্গলমহলের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের সহাবস্থানের চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জনবহুল এলাকায় দাঁতাল হাতির এমন শান্ত উপস্থিতি অনেককেই বিস্মিত করেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় মানুষের বসতি ও আধুনিক পরিকাঠামো বাড়ার ফলে অনেক সময় বন্যপ্রাণীরা জনবসতিতে ঢুকে পড়ে। তবে এদিনের ঘটনা আতঙ্কের চেয়ে বেশি কৌতূহল ও বিরল অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে।

সাতসকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অবজারভার’ রামলাল! সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখল জঙ্গলমহলের প্রিয় দাঁতাল
ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই দেখা মিলল জঙ্গলমহলের পরিচিত দাঁতাল হাতি ‘রামলাল’-এর। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার শান্ত বিচরণ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বরং গোটা ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল, হাস্যরস ও বিরল অভিজ্ঞতার আবহ।

Leave a comment