শাল, সেগুন আর হাতির জন্য পরিচিত ঝাড়গ্রাম এবার পেতে চলেছে নতুন পরিচয়। রাজ্য সরকারের বাজেটে ঘোষিত হয়েছে অত্যাধুনিক টাইগার সাফারি প্রকল্প। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কের বিপরীতে প্রায় ১৬০ একর শাল জঙ্গলের মধ্যে তৈরি হবে বিশেষ সাফারি এলাকা, যেখানে খোলা পরিবেশে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখতে পারবেন পর্যটকেরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২৫ কোটি টাকার প্রকল্পে বদলাবে ঝাড়গ্রামের পর্যটনের চেহারা
রাজ্য বাজেটে ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি গড়ে তুলতে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কের উল্টো দিকে বিস্তীর্ণ শালবনের মধ্যে গড়ে উঠবে আধুনিক সাফারি পার্ক। দীর্ঘদিনের এই পরিকল্পনা নতুন করে গতি পাওয়ায় পর্যটন শিল্পে আশার সঞ্চার হয়েছে।
খোলা জঙ্গলে বাঘ, বিশেষ গাড়িতে ঘুরবেন পর্যটকরা
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট এলাকাকে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে সেখানে খোলা পরিবেশে বিচরণ করবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। পর্যটকরা বিশেষ সাফারি গাড়িতে চেপে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাঘের স্বাভাবিক আচরণ দেখার সুযোগ পাবেন। উত্তরবঙ্গের সাফারির ধাঁচে দক্ষিণবঙ্গে এই ধরনের উদ্যোগ প্রথমবার হতে চলেছে।
দক্ষিণবঙ্গের পর্যটনে নতুন আকর্ষণ
এতদিন দক্ষিণবঙ্গের পর্যটকদের বাঘ দেখতে সুন্দরবন, ওড়িশার শিমলিপাল বা ঝাড়খণ্ডের দলমার মতো গন্তব্যে যেতে হতো। ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি চালু হলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন এই প্রকল্প দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করবে এবং ঝাড়গ্রামকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
স্থানীয় অর্থনীতিতে আসবে নতুন গতি
টাইগার সাফারি প্রকল্পকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বিশ্বাস, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহণ, হস্তশিল্প, গাইড পরিষেবা, সাইকেল স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ঘটবে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে
বর্তমানে জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে ৩৫০-রও বেশি পশুপাখি রয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণীদের সফল প্রজননের জন্য ইতিমধ্যেই এই পার্কের সুনাম রয়েছে। বনদফতরের কর্মকর্তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে টাইগার সাফারি গড়ে উঠলে বাঘের সংরক্ষণ ও প্রজননের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাস এবং পর্যটন—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা অনুসরণ করা হলে এই সাফারি প্রকল্প জঙ্গলমহলের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম মডেল হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের পর্যটনে বড় সংযোজন হতে চলেছে ঝাড়গ্রামের অত্যাধুনিক টাইগার সাফারি প্রকল্প। রাজ্য বাজেটে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবের পর শালবনের ১৬০ একর এলাকাজুড়ে গড়ে উঠতে চলেছে এই সাফারি পার্ক। পর্যটনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।










