ঝাড়খণ্ডে দুর্বল হচ্ছে বর্ষার সক্রিয়তা, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাঁচিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা

ঝাড়খণ্ডে বর্ষার সক্রিয়তা ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাঁচিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবরের কাছাকাছি রাজ্য থেকে বর্ষার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে দুর্বল হচ্ছে বর্ষার সক্রিয়তা, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাঁচিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা
Photo Credit / Attribution: Google

ঝাড়খণ্ডে বর্ষার সক্রিয়তা ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। তবে আপাতত বৃষ্টির পর্ব পুরোপুরি শেষ হয়নি। রাজধানী রাঁচি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে থেমে থেমে বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাঁচিতে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য থেকে বর্ষার সম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তন অক্টোবরের কাছাকাছি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

রাঁচিতে গত কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার ধরন ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়েছে। কখনও আকাশে ঘন মেঘ দেখা যাচ্ছে, আবার কখনও অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হওয়ার পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের শহরভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বরও রাঁচিতে এক-দু’দফা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বরও আকাশ মেঘলা থাকা এবং বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক-দু’দফা বৃষ্টি অথবা বজ্রঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এই সময় রাঁচির তাপমাত্রায় খুব বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৩ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে। বৃষ্টি ও মেঘের কারণে দিনের তাপমাত্রায় ওঠানামা দেখা যেতে পারে এবং আবহাওয়ায় আর্দ্রতার সঙ্গে শীতলতার মিশ্র প্রভাব অনুভূত হতে পারে।

ঝাড়খণ্ডে সেপ্টেম্বরের বর্ষা কৃষি ও জলসম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় ধান-সহ একাধিক ফসলের উপর এই সময়ের বৃষ্টির সরাসরি প্রভাব পড়ে। তবে যেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়, সেখানে জমিতে জল জমা, নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং গ্রামীণ রাস্তায় যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ফলে আগামী দিনে বৃষ্টির পরিমাণ এবং অঞ্চলভিত্তিক বণ্টনের দিকে নজর থাকবে।

মৌসম কেন্দ্র রাঁচির পক্ষ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত উপখণ্ডভিত্তিক সতর্কবার্তায় ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। ১২ সেপ্টেম্বরও বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা ছিল। ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের জন্য কোনও ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়নি। এর অর্থ, বৃষ্টির কার্যকলাপ পুরোপুরি শেষ হবে না, তবে ভারী বৃষ্টির পর্ব দুর্বল হতে পারে।

রাঁচির জন্য প্রকাশিত সর্বশেষ আবহাওয়া রিপোর্টেও ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর আকাশ মেঘলা থাকা এবং এক-দু’দফা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বরও মেঘ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরও এক-দু’দফা বৃষ্টি অথবা বজ্রঝড় হতে পারে। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকার কথা জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার প্রত্যাবর্তন হঠাৎ একদিনে হয় না। এর জন্য বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা কমে যাওয়া, বৃষ্টির কার্যকলাপ ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হওয়া এবং বাতাসের গতিপথে পরিবর্তনের মতো একাধিক আবহাওয়াগত সংকেত দেখা হয়। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের মতে, কোনও অঞ্চলে বৃষ্টির কার্যকলাপ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়া, নিম্নস্তরে অ্যান্টি-সাইক্লোনিক সার্কুলেশনের প্রতিষ্ঠা এবং বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতার ঘাটতির মতো সংকেত বর্ষার প্রত্যাবর্তন ঘোষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণেই বর্ষার বিদায়ের তারিখ নিয়ে প্রাথমিক অনুমানে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। কোনও অঞ্চলে কয়েক দিন বৃষ্টি কমার পর ফের আর্দ্রতা ও বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হলে বর্ষার প্রত্যাবর্তন পিছিয়ে যেতে পারে। তাই অক্টোবরের মধ্যে বর্ষার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে আপাতত আবহাওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখা উচিত।

ঝাড়খণ্ডে সাধারণত সেপ্টেম্বরের পর বর্ষা ধীরে ধীরে দুর্বল হয় এবং অক্টোবরের সময় এর প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। গত বছরের আবহাওয়া সংক্রান্ত রেকর্ডেও অক্টোবরের প্রথম বা মাঝামাঝি সময়ের কাছাকাছি রাজ্য থেকে বর্ষার প্রত্যাবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালের একটি আবহাওয়া আপডেটেও ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ১২ অক্টোবরের কাছাকাছি বর্ষার প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার অনুমান করা হয়েছিল।

এ বছরও আবহাওয়ার বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টির কার্যকলাপ ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেপ্টেম্বরের পর রাজ্যে বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বর্ষা দুর্বল হলেও স্থানীয় আবহাওয়া ব্যবস্থা, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সিস্টেম এবং স্থানীয় কনভেকশনের কারণে কিছু এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

রাঁচিতে আপাতত মানুষকে থেমে থেমে বৃষ্টির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, দুপুর বা সন্ধ্যায় বৃষ্টি এবং কিছু সময় পর আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি বারবার তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে শহরের কিছু অংশে রাস্তায় জল জমে এবং যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এমন আবহাওয়ায় গাড়িচালকদের সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, বিশেষ করে বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং রাস্তায় পিচ্ছিলভাব বাড়ার পরিস্থিতিতে।

বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সময় বজ্রপাতের ঝুঁকিও বজায় থাকে। আবহাওয়া দফতর সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অংশে বজ্রপাত ও জোরালো বাতাস নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে খোলা মাঠ, কৃষিজমি, গাছের নিচে অথবা বিদ্যুতের খুঁটির আশপাশে দাঁড়ানো এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষক এবং গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষভাবে আবহাওয়ার সতর্কতার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

রাজ্যের কৃষকদের জন্য আগামী দিনের আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ধানের ফসলের জন্য বৃষ্টি উপকারী হতে পারে, তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। যেসব এলাকায় ইতিমধ্যেই জল জমে রয়েছে, সেখানে ধারাবাহিক বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় বৃষ্টি কম হয়েছে, সেখানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারী হতে পারে।

আবহাওয়া দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে দিনে রোদের প্রভাব বাড়তে পারে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে রাঁচিতে মেঘ ও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তবে বৃষ্টির কার্যকলাপ কমার পর তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। এর সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা কমলে ভ্যাপসা গরমেও পরিবর্তন আসবে।

ঝাড়খণ্ড থেকে বর্ষার বিদায়ের পর আবহাওয়ায় আরও একটি পরিবর্তন দেখা যায়। বৃষ্টি কমার সঙ্গে সকাল ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ এবং অক্টোবরের শুরুতে গরম পুরোপুরি শেষ হয় না। দিনে রোদ তীব্র অনুভূত হতে পারে, অন্যদিকে রাতে আবহাওয়া তুলনামূলক মনোরম হতে শুরু করে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের পর আবহাওয়ায় শীতলতার প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।

আপাতত রাজধানী রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের মানুষকে বৃষ্টি থেকে পুরোপুরি স্বস্তি পেতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাঁচিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পর্ব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য অংশেও স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী বৃষ্টি হতে পারে। এরপর বৃষ্টির কার্যকলাপ ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ষার সরকারি প্রত্যাবর্তন আবহাওয়া দফতরের নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতেই ঘোষণা করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, ঝাড়খণ্ডে এখনও বর্ষা পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার অবস্থায় নেই। রাঁচিতে আগামী কয়েক দিন মেঘ ও বৃষ্টির প্রভাব বজায় থাকবে, অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বর্ষার সক্রিয়তা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। অক্টোবরের কাছাকাছি বর্ষার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনার মধ্যে আপাতত রাজ্যবাসীকে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ও বজ্রপাত সংক্রান্ত স্থানীয় সতর্কতার দিকে নজর রাখতে হবে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষক, গাড়িচালক এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

Leave a comment