Kagaj Phool Care: বোগেনভিলিয়ায় শুধু পাতা আর পাতা? ২ চামচ করে এই ২ উপাদান দিন, ফুল বাড়াতে কাজে আসতে পারে সহজ পরিচর্যা

: বোগেনভিলিয়ায় ফুলের বদলে শুধু পাতা হচ্ছে? অতিরিক্ত জল এড়িয়ে কীভাবে রোদ, ভার্মিকম্পোস্ট, পটাশিয়াম ও ফসফরাস দিয়ে গাছের পরিচর্যা করবেন, জেনে নিন।

বাগানবিলাস বা বোগেনভিলিয়া গাছ বাড়িতে আনলেই প্রথম দিকে প্রচুর ফুল দেখা যায়। কিন্তু কিছুদিন পর সেই গাছেই ফুলের বদলে বাড়তে থাকে শুধু পাতা। তখন অনেকেই বেশি করে জল বা সার দিতে শুরু করেন। তাতে উল্টে সমস্যা বাড়তে পারে। কাগজফুলের পরিচর্যায় তাই জল, রোদ এবং সারের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফুলের বৃদ্ধির জন্য পটাশিয়াম ও ফসফরাস-সমৃদ্ধ পুষ্টি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বেশি জল নয়, আগে মাটি পরীক্ষা করুন

বোগেনভিলিয়া গাছ অতিরিক্ত জল পছন্দ করে না। টবে থাকা গাছে বারবার জল দেওয়ার আগে মাটির আর্দ্রতা দেখে নেওয়া ভালো।মাটির উপরের অংশ শুকিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিন। টবে যেন জল জমে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত জল জমে থাকলে শিকড়ের সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে।

৩০-৪০ দিন অন্তর পুষ্টির দিকে নজর

টবে থাকা গাছের মাটি থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টি কমে যেতে পারে। তাই বোগেনভিলিয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যবধানে সার বা জৈব পুষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন অন্তর গাছের প্রয়োজন বুঝে সার দেওয়া যেতে পারে। তবে গাছের বয়স, টবের আকার এবং মাটির অবস্থার উপর সারের প্রয়োজনীয়তা বদলাতে পারে।

ভার্মিকম্পোস্টের সঙ্গে পটাশিয়াম ও ফসফরাস

ফুলের বৃদ্ধির জন্য পটাশিয়াম ও ফসফরাস গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ পুষ্টি। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টবের মাটিতে প্রায় দুই কাপ ভার্মিকম্পোস্টের সঙ্গে দুই চা চামচ পটাশিয়াম পাউডার এবং দুই চা চামচ ফসফরাস পাউডার মিশিয়ে প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।তবে যে কোনও সার ব্যবহারের আগে প্যাকেটের নির্দেশিকা মেনে চলা জরুরি। অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করলে গাছের ক্ষতি হতে পারে।

সার দেওয়ার সময় শিকড়ের ক্ষতি করবেন না

সার দেওয়ার সময় টবের মাটি সামান্য আলগা করে নেওয়া যায়। তবে শিকড়ের খুব কাছে গভীরভাবে মাটি খোঁড়া উচিত নয়।সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পর হালকা জল দেওয়া যেতে পারে। এতে সার মাটির সঙ্গে মিশতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে টবে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ বা জল বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।

বোগেনভিলিয়ার জন্য রোদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

কাগজফুল বা বোগেনভিলিয়া পর্যাপ্ত আলো পেলে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তাই ঘরের অন্ধকার কোণে এই গাছ রাখার বদলে এমন জায়গা বেছে নেওয়া ভালো যেখানে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক পৌঁছয়।বাড়ির বারান্দা, ছাদ বা খোলা জায়গায় গাছ রাখার সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগানো যেতে পারে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়ার ব্যবস্থা করা ভালো।

পাতা বেশি, ফুল কম হলে কী করবেন?

গাছে পাতার বৃদ্ধি বেশি অথচ ফুল কম হলে একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন না করে পরিচর্যার কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করুন।প্রথমে দেখুন গাছটি পর্যাপ্ত রোদ পাচ্ছে কি না। এরপর মাটি সবসময় ভেজা থাকছে কি না এবং নিয়মিত অতিরিক্ত জল দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খেয়াল করুন। পাশাপাশি মাটিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে কি না সেটিও বিবেচনা করা দরকার।সঠিক আলো, নিয়ন্ত্রিত জল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি—এই তিনটি বিষয় বোগেনভিলিয়ার পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ণ।

বোগেনভিলিয়া বা কাগজফুল গাছে অনেক সময় পাতার বৃদ্ধি বেশি হলেও ফুল তেমন দেখা যায় না। অতিরিক্ত জল, পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়া কিংবা মাটিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি এর অন্যতম কারণ হতে পারে। নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি ভার্মিকম্পোস্টের সঙ্গে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মতো পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করা যায়। তবে সঠিক পরিমাণে সার দেওয়া এবং গাছের মাটি, রোদ ও জল দেওয়ার বিষয়েও নজর রাখা জরুরি।

Leave a comment