‘রামায়ণ’-এ মন্দোদরীর চরিত্রে কাজল আগরওয়াল, দ্বিতীয় পর্বে বাড়তে পারে ভূমিকা

নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিতে মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল আগরওয়াল। প্রথম পর্বে তাঁর ভূমিকা, অভিনয়জীবন, ‘সিংহম’-এর সাফল্য এবং দ্বিতীয় পর্বে চরিত্রের সম্ভাব্য গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন।

নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় তৈরি ‘রামায়ণ’ ৫ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী এবং যশের অভিনয়ের পাশাপাশি ছবির অন্যান্য অভিনেতাদের নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে রাবণের স্ত্রী মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় করা কাজল আগরওয়াল দর্শকদের নজর কেড়েছেন। ছবিতে তাঁর উপস্থিতি কয়েকটি দৃশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও রাজকীয় সাজ এবং পর্দায় তাঁর উপস্থিতি আলাদা করে নজর কেড়েছে। বলিউডে ‘সিংহম’ ছবির মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া কাজল দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ।

‘রামায়ণ’ ছবিতে লঙ্কেশ্বর রাবণের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কন্নড় সুপারস্টার যশ। তাঁর স্ত্রী মন্দোদরীর চরিত্রে দেখা যাচ্ছে কাজল আগরওয়ালকে। ছবির প্রথম পর্বে তাঁর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত। মাত্র দুই থেকে তিনটি দৃশ্যে তাঁকে দেখা যায়। পাশাপাশি রয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত সংলাপ।

ছবিতে মন্দোদরীর চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজলের পোশাক, গয়না এবং সামগ্রিক সাজ তৈরি করা হয়েছে। রাজকীয় পোশাক ও শান্ত অভিব্যক্তিতে তাঁকে রানির চরিত্রে দেখা গিয়েছে। তবে পর্দায় উপস্থিতির সময় কম থাকায় চরিত্রটিকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাননি অভিনেত্রী।

ছবি মুক্তির আগেই একটি সাক্ষাৎকারে কাজল জানিয়েছিলেন, প্রথম পর্বে তাঁর চরিত্রের ভূমিকা সীমিত থাকবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, গল্পের এই অংশে লঙ্কার ঘটনাবলি তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। সেই কারণেই মন্দোদরীর উপস্থিতিও বেশি রাখা হয়নি।

যশের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছিলেন কাজল। তাঁর কথায়, যশ অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং নিজের কাজের প্রতি যথেষ্ট দায়িত্বশীল। এত বড় একটি ছবির অংশ হতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা।

১৯৮৫ সালের ১৯ জুন মুম্বইয়ে জন্ম কাজল আগরওয়ালের। ২০০৪ সালে হিন্দি ছবি ‘কিউঁ! হো গয়া না...’-এর মাধ্যমে অভিনয়জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। সেই ছবিতে তাঁর ভূমিকা ছিল ছোট। এরপর তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে কাজ শুরু করেন।

‘রামায়ণ’-এ মন্দোদরীর চরিত্রে কাজল আগরওয়াল, দ্বিতীয় পর্বে বাড়তে পারে ভূমিকা

২০০৭ সালে তেলুগু ছবি ‘লক্ষ্মী কল্যাণম’-এ প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করেন কাজল। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘চন্দামামা’ ছবির মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে পরিচিতি পান তিনি।

২০০৯ সালে এসএস রাজামৌলির পরিচালনায় ‘মগধীরা’ ছবিতে অভিনয় তাঁর কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। এই ছবিতে রামচরণের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকদের পছন্দ হয়। ছবিটির সাফল্যের পর তেলুগু চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত অভিনেত্রীদের তালিকায় জায়গা করে নেন কাজল।

এরপর ‘ডার্লিং’, ‘মিস্টার পারফেক্ট’, ‘বিজনেসম্যান’ এবং ‘বাদশাহ’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তামিল চলচ্চিত্রেও বিজয়, সূর্য-সহ একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন কাজল।

দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে সাফল্যের পর ২০১১ সালে অজয় দেবগনের বিপরীতে ‘সিংহম’ ছবিতে অভিনয় করেন কাজল আগরওয়াল। রোহিত শেট্টি পরিচালিত এই ছবিতে কাব্যা ভোঁসলের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ছবিটি সফল হওয়ার পর হিন্দি দর্শকদের মধ্যেও তাঁর পরিচিতি বাড়ে।

এরপর ২০১৩ সালে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘স্পেশাল ২৬’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবিতেও তাঁর চরিত্র দর্শকদের নজর কাড়ে।

কর্মজীবনে অ্যাকশন, রোম্যান্স, কমেডি এবং ড্রামা-সহ বিভিন্ন ধরনের ছবিতে অভিনয় করেছেন কাজল। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘থুপ্পাক্কি’, ‘জিল্লা’, ‘মার্সাল’ এবং ‘কাইদি নম্বর ১৫০’।

রামায়ণের কাহিনিতে মন্দোদরী একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে তাঁকে বিচক্ষণ ও দূরদর্শী রানি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাবণকে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতেও দেখা যায় তাঁকে।

নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় ‘রামায়ণ’ দুটি পর্বে তৈরি হচ্ছে। প্রথম পর্ব ইতিমধ্যেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। দ্বিতীয় পর্ব ২০২৭ সালে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম পর্বে কাজল আগরওয়ালের উপস্থিতি সীমিত থাকায় দ্বিতীয় পর্বে তাঁর চরিত্র কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্বে তাঁর পর্দায় উপস্থিতির সময় বা চরিত্রের বিস্তার নিয়ে নির্মাতাদের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘রামায়ণ’ প্রথম দিনেই ভারতে প্রায় ৬৪.৮৫ কোটি টাকার নেট বক্স অফিস কালেকশন করেছে। ছবির একাধিক তারকার মধ্যে কাজল আগরওয়ালের মন্দোদরী চরিত্রে স্বল্প সময়ের উপস্থিতিও আলোচনায় রয়েছে।

 

Leave a comment