দুপুর পর্যন্ত তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছিল মুর্শিদাবাদ। বিকেলের পর আচমকাই কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। তারপর শুরু হয় প্রবল ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের তাণ্ডব। ঘণ্টাখানেকের সেই কালবৈশাখী ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জেলার একাধিক এলাকা। কোথাও উপড়ে পড়ে বিশাল গাছ, কোথাও ভেঙে যায় মাটির বাড়ি, আবার কোথাও মুহূর্তে শেষ হয়ে যায় কৃষকের বহুদিনের পরিশ্রম।
বজ্রপাতে নিভল প্রাণ, শোকে স্তব্ধ ভরতপুর
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ভরতপুরে। ঝড়-বৃষ্টির মাঝেই মাঠে বাঁধা গবাদিপশু আনতে গিয়েছিলেন বছর ৪৬-এর বিলকিস বেগম। আচমকা বজ্রাঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের দাবি, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।
কান্দি-জিয়াগঞ্জে তাণ্ডব, রাস্তার উপর উপড়ে পড়ল গাছ
সোমবার বিকেলের ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কান্দি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। কান্দি-কুলি রাজ্য সড়কের উপর একাধিক বড় গাছ উপড়ে পড়ায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জিয়াগঞ্জের ফুলতলা মোড়েও একই ছবি দেখা যায়। বহু পুরনো গাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দোকানপাট ও বাড়িঘর। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা।
কালবৈশাখীর দাপটে ভাঙল ঘর, মাঠজুড়ে ফসলের হাহাকার
ঝড়ের তীব্র দাপটে মুর্শিদাবাদের একাধিক গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে এসেছে। বিশেষ করে কান্দি ও আশপাশের অঞ্চলে বহু মাটির বাড়ির চাল উড়ে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধু বাড়িঘরই নয়, প্রকৃতির এই তাণ্ডবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন কৃষকরাও। মাঠভর্তি বেগুন, পটল, লঙ্কা, কলা ও পেঁপের চাষ প্রায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। ঝড়ে আম ও কাঁঠালের গাছ থেকেও প্রচুর ফল ঝরে পড়ায় মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের।স্থানীয় কলাচাষি সাবিরুদ্দিন শেখের কথায়, “সব খরচ করে সবে কলা ধরতে শুরু করেছিল। এখন বিক্রি করে সংসার চালানোর সময় ছিল। এক ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল।”
ঝড়ের পর স্বস্তির বৃষ্টি, কমল তাপমাত্রা
সকাল থেকে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল ছিলেন মানুষজন। তবে বিকেলের প্রবল বৃষ্টির পর তাপমাত্রা এক ধাক্কায় প্রায় ৮ ডিগ্রি নেমে যায়। বহরমপুর ও জঙ্গিপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় আধ ঘণ্টার বেশি বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে জেলাবাসীর। যদিও ঝড়ের ধাক্কায় জাতীয় সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে দেখা যায় চালকদের।
প্রশাসনের তৎপরতা, শুরু সাফাই অভিযান
ঝড় থামতেই বহরমপুর পুরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর দ্রুত উদ্ধার ও সাফাই কাজে নামে। রাস্তার উপর পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
প্রবল কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে মুর্শিদাবাদ। ভরতপুরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূর। কান্দি, জিয়াগঞ্জ, হরিহরপাড়া ও বহরমপুর জুড়ে উপড়ে পড়েছে গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচাবাড়ি ও কলাবাগান। ঝড়ের পর তাপমাত্রা কমে মিলেছে সাময়িক স্বস্তি, তবে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের।











