কৌশিকী অমাবস্যা মানেই তারাপীঠে ভক্তের ঢল। এই বিশেষ তিথিতে মা তারার পুজো ও নিশিপালনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জমজমাট বীরভূমের তারাপীঠ। বিপুল ভিড় সামলাতে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ জোর দিয়েছে প্রশাসন। প্রায় ৪ হাজার পুলিশকর্মী, ১১টি ওয়াচ টাওয়ার এবং ২৭টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রের পাশাপাশি ভক্তদের সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে একাধিক পরিষেবা।
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে বিশেষ পুজো
ভাদ্র মাসের কৌশিকী অমাবস্যা তারাপীঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি। ২০২৬ সালে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিথি শুরু হয়েছে। শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তিথি শেষ হবে।এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতেই তারাপীঠ মন্দির-সহ বীরভূমের বিভিন্ন জায়গায় মা তারার বিশেষ পুজো ও নিশিপালনের আয়োজন রয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমন ঘটেছে।
প্রায় ৪ হাজার পুলিশ, ১১ ওয়াচ টাওয়ারে নজরদারি
বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে তারাপীঠ চত্বরে জোরদার করা হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা। প্রায় ৪ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। ভিড়ের গতিবিধির উপর নজর রাখতে তৈরি করা হয়েছে ১১টি ওয়াচ টাওয়ার।এছাড়াও ভক্তদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দিতে রয়েছে ২৭টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র। কোনও পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কোনও সমস্যায় পড়লে দ্রুত সাহায্য করার জন্য এই ব্যবস্থাগুলি রাখা হয়েছে।
দর্শনের জন্য ১৪টি জায়ান্ট স্ক্রিন
মন্দিরে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবং দূর থেকে মা তারার দর্শনের সুযোগ করে দিতে তারাপীঠ চত্বরে বসানো হয়েছে ১৪টি জায়ান্ট স্ক্রিন। এর ফলে মন্দিরের সামনে সরাসরি পৌঁছতে না পারলেও ভক্তরা স্ক্রিনের মাধ্যমে পুজোর দৃশ্য দেখতে পারবেন।পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য রয়েছে ৮টি বিশেষ বাস। এই বাসগুলি মুনসুবা মোড় থেকে তারাপীঠের সোনার বাংলা মোড় পর্যন্ত যাতায়াত করবে। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।এছাড়াও কলকাতা থেকে ভক্তদের জন্য দেওয়া হয়েছে ১০টি বাস।
আগুন ও বিপর্যয় মোকাবিলাতেও প্রস্তুতি
শুধু পুলিশি নিরাপত্তাই নয়, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাতেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রশাসনকে। প্রায় ২০০ জন দমকলকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে ৮টি ফায়ার রোবট/টেন্ডারতারাপীঠ মন্দির ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৪০০টি CCTV ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ফলে ভিড়ের পাশাপাশি মন্দির চত্বরের নিরাপত্তার উপরও রাখা হচ্ছে সার্বক্ষণিক নজর।
২.৫ লক্ষ পানীয় জলের পাউচ
দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের কথা মাথায় রেখে পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে প্রায় ২.৫ লক্ষ পানীয় জলের পাউচ মজুত রাখা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তার জন্য ২৫ জন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যও প্রস্তুত রয়েছেন।
বাউল ও লোকশিল্পীদের বিশেষ আয়োজন
কৌশিকী অমাবস্যার ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি তারাপীঠে বাংলার লোকসংস্কৃতিকেও তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ৪০টি বাউল ও লোকশিল্পীর দল রাখা হয়েছে।ফলে পুজো ও দর্শনের পাশাপাশি ভক্ত-পর্যটকদের সামনে বাংলার লোকসংগীত ও সংস্কৃতিরও আস্বাদ পাওয়ার সুযোগ থাকছে।
প্রশাসনের তৎপরতা, শৃঙ্খলা মেনে পুজোর আবেদন
রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক ধ্রুব সাহা জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যাকে সফলভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েত গোলক মহারাজও জানিয়েছেন, সকাল থেকেই মন্দিরে বিপুল ভিড় শুরু হয়েছে। ভক্তরা নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে পুজো দিচ্ছেন।
কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে সেজে উঠেছে বীরভূমের তারাপীঠ। ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১১ মিনিটে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের কৌশিকী অমাবস্যার তিথি, যা শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। তিথিকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা। নিরাপত্তার পাশাপাশি পানীয় জল, যাতায়াত, দর্শন ও জরুরি পরিষেবাতেও রাখা হয়েছে বিশেষ নজর।







