বাংলাদেশের রাজনীতির এক অধ্যায়ের অবসান। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও দেশের দুইবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশ জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ভোরের আলো ফোটার আগেই শেষ নিঃশ্বাস
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের কিছুক্ষণ পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। সকাল প্রায় ৬টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন
চিকিৎসক সূত্রে খবর, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। বয়সজনিত জটিলতার পাশাপাশি সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট তাঁর অবস্থাকে আরও সঙ্কটজনক করে তোলে। গত কয়েক মাসে একাধিকবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।
এভারকেয়ার হাসপাতালেই শেষ সময়
ঢাকার নামী বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারে বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা জানান, সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও শরীর আর সাড়া দিচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
মৃত্যুশয্যার পাশে কারা ছিলেন
বিএনপির প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, শেষ সময় খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা। উপস্থিত ছিলেন বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, ভাই শামীম এস্কান্দার, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা।
রাজনৈতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯৯১–৯৬ এবং ২০০১–২০০৬—দু’দফায় দেশের শাসনভার সামলেছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং বিএনপিকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।









