সন্তান আঙুল চোষে বা নখ খায়? চিন্তা নয়, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য!

শিশুর আঙুল চোষা বা নখ খাওয়ার অভ্যাস কি সত্যিই ক্ষতিকর? গবেষণায় উঠে এসেছে ইমিউনিটি ও অ্যালার্জি কমার চমকপ্রদ তথ্য। জানুন বিস্তারিত।

বাড়ির ছোট্ট সদস্য যদি সবসময় আঙুল চোষে বা নখ খায়, অনেক বাবা-মাই আতঙ্কে ভোগেন। মনে হয় এতে শরীরে ঢুকছে ক্ষতিকর জীবাণু। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টা এতটা ভয়ঙ্কর নয়—বরং এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ইতিবাচক দিকও।

খারাপ অভ্যাস’ নয়, বাড়তে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

গবেষকদের মতে, আঙুল চোষা বা নখ খাওয়ার মতো অভ্যাস শিশুদের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। শরীরে অল্প পরিমাণ জীবাণুর প্রবেশ ভবিষ্যতে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা গড়ে তোলে।

অ্যালার্জির ঝুঁকি কমার ইঙ্গিত গবেষণায়

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যেসব শিশুদের এই দুই অভ্যাসই রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পোষ্য প্রাণী, ধুলো বা ফাংগাসজনিত অ্যালার্জির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ, ছোটবেলায় জীবাণুর সংস্পর্শে আসা শরীরকে আরও সহনশীল করে তুলতে পারে।

‘হাইজিন হাইপোথেসিস’-এর সঙ্গেই মিল

কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম্যালকম সিয়ারস জানান, এই ফলাফল ‘হাইজিন হাইপোথেসিস’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বড় হলে শিশুদের শরীর অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কম প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

পরিসংখ্যানে মিলল চমক

গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু আঙুল চোষে, তাদের মধ্যে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা প্রায় ৩০% পর্যন্ত কম। অর্থাৎ এই অভ্যাস একেবারে অযথা ভয় পাওয়ার মতো নয়।

তবে সতর্কতাও জরুরি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই অভ্যাসকে উৎসাহিত করতে বলছেন না। কারণ অতিরিক্ত নখ খাওয়া বা আঙুল চোষা দাঁতের সমস্যা, সংক্রমণ বা সামাজিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত ভারসাম্য বজায় রাখা।

শিশুর আঙুল চোষা বা নখ কামড়ানোর অভ্যাস নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা নতুন নয়। তবে গবেষণা বলছে, এই অভ্যাসে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে এবং অ্যালার্জির ঝুঁকি কমতেও পারে।

Leave a comment