সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার সময় হাঁটুতে কটকট শব্দ হচ্ছে? হাঁটতে গেলে ব্যথা বা বসে থাকার পর হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিচ্ছে? এমন উপসর্গের পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু মালিশ বা ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ বোঝা জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, সুষম খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে হাঁটুর যত্ন নেওয়া সম্ভব।
কেন হাঁটুতে ব্যথা ও জড়তা হয়?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুর জয়েন্টে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে হাঁটুতে ব্যথা হওয়ার একমাত্র কারণ বয়স নয়। অতিরিক্ত ওজন, চোট, জয়েন্টের সমস্যা, আর্থ্রাইটিস এবং কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টির ঘাটতিও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।হাঁটুর ব্যথার কারণে সিঁড়ি ওঠা, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে পড়ে। হাঁটুতে কটকট শব্দ হলেই যে গুরুতর রোগ হয়েছে, এমন নয়। কিন্তু শব্দের সঙ্গে ব্যথা, ফোলাভাব, হাঁটু আটকে যাওয়া বা চলাফেরায় অসুবিধা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সর্ষের তেল দিয়ে মালিশ করলে কি আরাম মিলবে?
চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরানের মতে, কিছু ক্ষেত্রে সর্ষের তেল দিয়ে হালকা মালিশ করলে সাময়িক আরাম পাওয়া যেতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে ক্যাস্টর অয়েলও মালিশের কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে মালিশ হাঁটুর ব্যথার মূল কারণ সারিয়ে দেয়, এমন প্রমাণ নেই।মালিশ করার সময় হাঁটুর উপর জোরে চাপ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে হাঁটু ফুলে গেলে, লাল হয়ে গেলে, গরম অনুভূত হলে বা সম্প্রতি আঘাত লাগলে নিজের মতো মালিশ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গরম সেঁক কি হাঁটুর জড়তা কমাতে পারে?
হাঁটুতে দীর্ঘদিনের জড়তা থাকলে হালকা গরম সেঁক কিছু মানুষের আরাম দিতে পারে। এর জন্য গরম জলের ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ব্যাগ খুব গরম রাখা চলবে না এবং ত্বকের সঙ্গে সরাসরি দীর্ঘক্ষণ লাগিয়ে রাখা উচিত নয়।হাঁটুতে হঠাৎ ফোলাভাব বা প্রদাহ দেখা দিলে গরম সেঁক সব সময় উপযুক্ত নয়। এমন পরিস্থিতিতে কী ধরনের সেঁক প্রয়োজন, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
হলুদ মেশানো দুধ, মেথি ও আদা চা কি উপকারী?
হাঁটুর যত্নে খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব রয়েছে। ডা. ইমরানের পরামর্শে কয়েকটি ঘরোয়া খাবারের কথা উঠে এসেছে। তবে এগুলিকে ব্যথা সারানোর ওষুধ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
হলুদ মেশানো দুধ: রাতে দুধের সঙ্গে অল্প হলুদ মিশিয়ে পান করা যেতে পারে, যদি দুধ আপনার সহ্য হয়। হলুদে থাকা কারকিউমিন নিয়ে প্রদাহ কমানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে গবেষণা হয়েছে। তবে রান্নায় ব্যবহৃত হলুদের পরিমাণে হাঁটুর ব্যথা কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।ভেজানো
মেথি: মেথি খাবারের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যায়। কিন্তু ভেজানো মেথি খেলে হাঁটুর ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস সেরে যায়, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পর্যাপ্ত নয়। ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে বা নিয়মিত কোনও ওষুধ গ্রহণ করলে বেশি পরিমাণে মেথি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আদা চা: আদা দিয়ে তৈরি চা অনেকের কাছে আরামদায়ক পানীয়। আদার প্রদাহ-সম্পর্কিত প্রভাব নিয়ে কিছু গবেষণা থাকলেও সাধারণ আদা চা হাঁটুর ব্যথার নিশ্চিত চিকিৎসা নয়। অতিরিক্ত আদা কারও কারও অম্বল বা পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
সুষম খাবার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
হাঁটুর স্বাস্থ্যের জন্য শুধু একটি বিশেষ খাবারের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রাখা জরুরি। পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়াতে পারে। তাই নিজের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা ফিজিওথেরাপির মতো উপযুক্ত কার্যকলাপ উপকারী হতে পারে। তবে ব্যথা বেড়ে গেলে জোর করে ব্যায়াম করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
হাঁটুর ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে চললে, ক্রমশ বাড়লে বা হাঁটাচলায় বাধা সৃষ্টি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। হাঁটু হঠাৎ খুব ফুলে যাওয়া, লাল বা গরম হয়ে যাওয়া, জ্বরের সঙ্গে ব্যথা, আঘাতের পর পায়ে ভর দিতে না পারা কিংবা হাঁটু আটকে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিস, লিগামেন্টের চোট কিংবা অন্য জয়েন্টের সমস্যার ক্ষেত্রে শুধু ঘরোয়া প্রতিকার যথেষ্ট নয়। সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুতে ব্যথা, ফোলাভাব ও জড়তা অনেকের দৈনন্দিন সমস্যায় পরিণত হয়। অতিরিক্ত ওজন, হাঁটুর উপর চাপ, আঘাত কিংবা আর্থ্রাইটিসের মতো বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরানের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে হালকা মালিশ, উপযুক্ত সেঁক এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস আরাম পেতে সাহায্য করতে পারে। হলুদ মেশানো দুধ, ভেজানো মেথি ও আদা চা খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে, তবে এগুলি হাঁটুর রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়।













